অম্ল-মধুর – সুবীর কুমার রায়

 অম্ল-মধুর   - সুবীর কুমার রায়

ফেসবুক পাগল তপন আজ হঠাৎ এক মহিলার ছবি মোবাইলে দেখে একটু সময় নিয়ে ভাবতে বসলো। এই মহিলার নাম বা পদবি, কোনটাই তার পরিচিত না হলেও, ছবিটা যেন অতি পরিচিত বলে মনে হলো। কিছুতেই মনে করতে না পেরে, তার প্রোফাইল খুলে দেখতে দেখতে কলেজ ছাড়ার পরের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেল।

প্রায় রোজই সে দু’-তিনজন বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে সন্ধ্যার পর স্থানীয় রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বসে আড্ডা দিতো। তখন প্ল্যাটফর্মগুলো আজকের মতো এত সাজানো গোছানো ছিল না, এতো উজ্জ্বল আলোও জ্বালা হতো না। বেশ দূরে দূরে কিছু অল্প পাওয়ারের বাল্ব, লাইট পোস্টের নীচের কিছুটা অংশ আলোকিত করতো মাত্র।
সন্ধ্যার পর একজন বৃদ্ধ প্ল্যাটফর্মের দক্ষিণ দিক থেকে এসে ও একজন বৃদ্ধা প্ল্যাটফর্মের উত্তর দিক থেকে প্রায় একই সময় এসে, আলো আঁধারিতে একটা গাছের নীচে নির্দিষ্ট বেঞ্চে পাশাপাশি বসে গল্প করতেন। ঘন্টাখানেক পরে, তাঁরা আবার যে যার পথে ফিরে যেতেন। সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত তরতাজা তপনরা ধরেই নিয়েছিল, যে তাঁদের মধ্যে একটা প্রেমপর্ব চলছে, অতীতের ব্যর্থ প্রেমও দীর্ঘদিন পড়ে মাথা চাড়া দিয়ে উঠে থাকতে পারে।
মহিলাটির প্রোফাইল ঘেঁটে তপন তাকে চিনতে পারে। আজ থেকে প্রায় বিয়াল্লিশ বছর আগে বাইশ বছরের তপনের, বছর সতেরোর অল্প পরিচিত এই মহিলাটির সাথে আলাপ হয়েছিল। আজও তপনের বেশ মনে পড়ে, সেদিনের সেই মেয়েটি তাকে কিছু বলতে চেয়েছিল, বোঝাতে চেয়েছিল। সব বুঝেও না বোঝার ভান করে তপন সেদিন পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল, কারণ সেদিন সে বেকার ছিল। তারপর থেকে দুজনের আর কোনদিন দেখা হয়নি।
আজ এতগুলো বছর পরে রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মের সেই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার মুখ দুটো কিছুক্ষণ মনে করার চেষ্টা করে, শেষে মহিলাটিকে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট্ পাঠিয়েই দিলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *