আশঙ্কা – রণেশ রায়

বৃষ্টি এসেছে সন্তর্পনে

মেঘ সজল চোখে,

আমাকে ডাকে ইশারায়,

ওর পায়ে নূপুরের শব্দ,

টুপ টুপ টুপ।

নূপুরের শব্দ শুনলে বুঝি এসেছে,

উতলা হয়ে ওঠে মনটা,

বুঝি ওর দুষ্টুমি,

আমাকে জড়িয়ে ধরবে

আমাকে ভেজাবে নাচাবে,

নাচব দুজনে

ভিজবো ওকে জড়িয়ে।

মা বকেন, বলেন,

ওরে খোকা

বখাটে মেয়েটার সঙ্গে মিশিস না

ওর সঙ্গে এত মেলামেশা ভালো না

এত হুটপাটিতে অসুখ করবে,

ও তোকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে ।

আমি কিন্তু নাচার,

মা বোঝে না

আমি যে ওর হৃদয় আঙিনায়

ভিজতেই চাই ভাসতে চাই

ওর সঙ্গে রঙ্গ তামাশা ।

দৌড়ে যাই ওর কাছে

ও আমায় জড়িয়ে ধরে আদর করে

নাকাল হই ভিজে।

আমার মতই ও অবাধ্য মেয়ে,

মায়ের কোল ছেড়ে

নেমে এসেছে আমাদের বাড়ির উঠোনে,

খুঁজে বেড়ায় আমাকে,

আমি থাকি অপেক্ষায় ও কখন আসে!

ও মেঘকন্যা, আকাশে নিবাস।

আগে আসত নিয়ম করে সময় ধরে,

আজকাল সময়ের ঠিক থাকে না

শ্রাবনে আসার কথা

কিন্তু এলো হয়তো আশ্বিনে

বা বলা যায় না মাঘের ঠান্ডায়!

আমি পড়ি মুশকিলে,

অসময়ে এলে কি আমাকে পাবে?

না কি আমি ওকে পাব,

অন্য কাজ তো থাকে!

ভীষণ অপ্রস্তুতে পড়তে হয়

আগে নিয়মিত এলে

মায়ের কথা সত্যি হত না,

ভিজলেও আমার অসুখ করত না,

কিন্তু এখন ভিজলে শরীরটা খারাপ হয়,

কেমন যেন বৃষ্টির সঙ্গে একটা দূরত্ব,

ও আগের মত এত অন্তরঙ্গ নয়

কেমন যেন ছাড়া ছাড়া ভাব,

মনে হয় বিচ্ছেদের শর্ত তৈরী হচ্ছে

আমার আশঙ্কা

বন্ধুত্বটা আর টিকবে না বোধ হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *