ওরা বোকা

দীপ্তেশ মাজী

জয়গোপাল,জিনি, চন্দনা ,শরব—এদের প্রতি কারোর নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকা নেই। সবাই এদের কেমন আছেন, কি করবেন, কোথায় থাকেন ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করে না। করবেই বা কেন ! এরা তো কথাই বলতে পারেনা। শুধু  ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।

জয়গোপাল হল কি ইয়ে, মানে কুক্কুরি।

জিনি অবশ্য স্যাময় প্রজাতির কুকুর।

চন্দনা হল খাঁচা বন্দি পাখি।

শরব এক বুড়ো বেড়াল।

এরা শঙ্কর বসু রোডের আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই বাঁচে কিন্তু এরা মানুষ নয়।

পশ্চিমাকাশ খুব লালচে হয়ে এসেছে। আজকের মতো আলো দেওয়া শেষ। এক ঝাঁক টিয়ের দল আকাশে কলরব তুলে ঘরে ফিরছে। তাদের চলে যাওয়ার পর আকাশে যে নিস্তব্ধতা ভিড় করে সেটা আর কেউ না হোক চন্দনা হাড়ে হাড়ে টের পায়।

অনেক দূর দিয়ে দেখলে মনে হয় যেন সবুজের আভা। যেন মরুভূমির দস্যুদের লুকিয়ে রাখা খাজানা। কাছে আসলেই বোঝা যায়। সবুজ আভাটা হঠাৎ একটা রংচঙে দু হাত  উঁচু খাঁচায় পরিণত হয়।ভেতরে চুপটি করে বসে আছে চন্দনা।

কিছুটা দূরে একটা শিবমন্দির।তার একেবারে নীচে একটা শ্বেতপাথরের বসার যাওয়া। জিনি তার ওপর শুয়ে আছে। চোখ দুটো নিরীহ। কানদুটো সজাগ। মাঝে মাঝে মাছিগুলো এসে ওর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। চট করে দেখলে মনে হবে যেন, সাদা পাথরের ওপর কেউ একঝাঁক তুলো রেখে গেছে।

জিনি আর চন্দনা একই ঘরের সদস্য।চন্দনার এক বছর পর জিনিকে আনা হয়। ও বয়সে তাই চন্দনার থেকে ছোটো।জিনি ঘরেই থাকে। আর সবার সাথে ও বিছানায় শোয়। চন্দনার খাঁচাটাকে একটা ঘরের আকৃতি দেওয়া হয়েছে। যাতে ওর পছন্দ হয়। তবুও, খাঁচা তো!

মাঝে মাঝে চড়ুই, শালিকেরা ওর খাঁচার সামনে চলে আসে। দু-চারটে কথাও হয়তো হয়! ওরা এসে ড্যাবড্যাব করে তাকায়। ভাবে,চন্দনা হয়তো কতই  সুখে আছে!

রাস্তার একেবারে মধ্যিখানে চার হাত-পা খেলিয়ে শুয়ে আছে শরব আর জয়গোপাল। রাস্তাই ওদের শোফা আর বালিশ। সকালের দিকটা জয়গোপাল বিস্কুট খেয়ে কাটিয়ে দেয়। মাঝে রুসুয়া লালার মুদিদোকানে চার প্যাকেট গুড্ডে ওর বরাদ্দ ছিল। শরব জয়গোপালের একেবারে তিন ভাগের এক ভাগ সাইজে। চিরযৌবনাধিকারী অথচ একটাও প্রেম কপালে আজ পর্যন্ত জোটেনি।

শরব অবশ্য পোষ্য। তাকে যত্নআত্তি করার লোক আছে। লাল রক্তমাখা কানকো, ফুলকা ওর প্রিয়।ঝড়জল হলেও ওর খাবার ঠিক পৌঁছে যায়। এদিক দিয়ে জয়গোপাল দু-তিন বেলা খাবারই পায়না।

খাবার জন্য ওকে এরতার পেছোনে কুইকাই কুইকাই করতে হয়।এখন বয়সটাও বাড়ছে, ও হাঁপিয়ে ওঠে। মাথা নামিয়ে ও বোঝানোর চেষ্টা করে।তবুও অনেকে মুখের সামনে দরজা বন্ধ করে দেয়। ও ফিরে আসে।

চন্দনা অবশ্য ছোলা খায়।বাঁ পায়ে ভর দিয়ে, ডান পাটা মুখের কাছে নিয়ে আসে।এদিক দিয়ে ওকে সত্যিই শৌখিন বলা

1 thought on “ওরা বোকা”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *