কলকাতা বইমেলা – ২ – মাধব মন্ডল

কলকাতা বইমেলা – ২  –  মাধব মন্ডল

গতকাল গিরিশ করনাড হল ( ১নং) ও নবনীতা দেবসেন হলে ( ২ নং) ঢোকা হয় নি, এপাশে শিশু বইমেলারও দিকে ঢোকা হয় নি, ওটা বিপদে পড়তে চাই নি বলে, ঘেঁষাঘেষি কাজ চলছে, বিদ্যুৎবাহী তার মেঝেতে ছড়িয়ে, প্লাই কাটা চলছে, হলের মধ্যে বলে ধুলো খুব, আজ একই কারনে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ঢোকা হল না।

হল নং ১ এবং ২ দু’টোতেই কাঠের মেঝে যথেষ্ট শক্তপোক্ত মনে হল না, কেমন যেন চাপে বসে যাচ্ছে, তাহলে ঠাসা ভিড়ে কি হবে? মনকে বলি, না না কিছু হবে না, হুম, ছোট বড় অনেক স্টল আছে, আরিয়াহান্টের মতো চাকুরির পরীক্ষার বইওয়ালাও, বিজ্ঞানের কিছু সংস্থাও আছে।

আজও বিদেশের স্টলগুলিতে বই ঢোকে নি, যদিও কাজ শেষের মুখে, কাল একজন দশাসই বিদেশীকে দেখলাম ছবি তোলায় ব্যস্ত, আজ কাউকেই চোখে পড়লো না, আর বিদেশীনী তো নৈব নৈব চ, ইউবিআই অডিটোরিয়াম রেডি, আর কিছুক্ষণ পরেই উদ্বোধন, ছোটরা গানের রিহার্সালে ব্যস্ত, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেকজনকে গেটের মুখে বলছেন, আরে এই গরমে এসি ছাড়া চলবে কি করে? দেখুন দেখুন…..

অডিটোরিয়ামের পাশেই গিল্ডের অফিস, সামনে অনেকটা ফাঁকা, চারদিকে পুলিসে পুলিসে ছয়লাপ, সাদা পোষাকেও, দু’জনের ভুঁড়ি দেখে খুব বিস্ময় জাগলো, এরা কি আর শরীর চর্চা করেই না! তাড়া খেলে তো পালাতেও পারবে না, বেঘোরে প্রাণটাই যাবে, আজ দুপুর থেকেই বইমেলার ভিতর এবং বাইরের এলাকা পুলিসে মুড়ে ফেলা হয়েছে, উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী আসছেন যে, 

তাঁর সময়েই উদ্বোধন করতে হচ্ছে, একদিন আগেই, আমজনতার জন্যে কাল থেকে মেলা খোলা, চব্বিশ বছর আগেকার কথা মনে পড়ছে, সেবার দৈনিক কালান্তরের এডুকেশন বিটের রিপোর্টার হিসাবে এসেছি, তখন গিল্ডের দায়িত্বে ছিলেন অনিল আচার্য, এতবছর পর বইমেলায় আবার পা রাখলাম নিজের খেয়ালে, সেদিনও অনাবশ্যক আবেগ ছাড়া, আজও।
এগিয়ে যাই ধীর পদক্ষেপে, চেনা পরিচিত খুঁজি, সামনাসামনি আলাপহীন, ফেসবুকে থাকা দু’একজনকে দেখি, স্টল গোছাতে ব্যস্ত, এগোই, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্টলে বই ঢুকছে, আজকালের কেতাদুরস্ত স্টলও সেজে উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গ মন্ডপের সামনে সরকারের প্রচারধর্মী লোকগীতি বাজছে, বাউলগীতিও বলা যায়,

শিল্পীদের পোষাকও বাউলদের মতো, গেরুয়া নয়, হলুদ, পাশেই সরকারি দলের মূখপত্র জাগো বাংলার মন্ডপ, সবার থেকে আলাদা, এদিকে লিটিল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নে কয়েকটি গোষ্ঠী সাজিয়ে গুছিয়ে তৈরি হচ্ছে, গেটগুলির কাজও শেষ, সন্ধ্যেবেলা সাজানো গোছানো আলোর ঝলকানি, মাননীয় অতিথিগণের জন্যে শেষ প্রসাধন চড়িয়ে স্বাগতম ভঙ্গিতে গদগদ হয়ে দাঁড়িয়ে।

বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নকে একটু দূর থেকে দেখলে আমাদের পরিচিত কোন সাজানো গোছানো বাড়ি মনে হতে বাধ্য, আর উর্দু একাডেমীর বুক সেলফের কারুকার্য্য মুসলিম শিল্পরীতি মেনেই হয়েছে দেখলে বুঝবেন।
খাবারের স্টলগুলো এখনও চালু হয় নি, যদিও চা কফি ভিতরে বাইরে মিলছে, চলছে ঘুরে ঘুরে চা কফি বিক্রিও।
আগামীকালও যে কাজ শেষ হবে না বুঝে এলাম সেটা।
 চলবে————-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *