জোছনা মানব  — আলম তৌহিদ 

দশ বছর গত হলো চামেলির স্বামী মারা গেছে। সেদিন ছিল প্রচণ্ড ঝড়। রেড়িও-টিভিতে বিপদ সংকেত জানিয়ে বারবার বিশেষ বুলেটিন প্রচার হচ্ছিল। ঝড়ের নাম আইলা না নার্গিস এখন চামেলি মনে করতে পারে না। তবে ঝড়ের তান্ডব সে ভুলেনি। ফ্ল্যাটের জানালার নীল কাঁচ ঝন ঝন করে ভেঙ্গে পড়ছিল। গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে যত্রতত্র পড়ে থাকল। উপকূলে প্রাণহানী ঘটল প্রচুর। এমন দুর্যোগের মুহূর্তে আমানের বুকে ব্যথা শুরু হলো। সে দু’হাতে বুক চেপে  বিছানায় শুয়ে পড়ল। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই তার দেহ হয়ে গেল নিস্তেজ ।
বাবার মৃত্যুর সময় চৈতির বয়স ছিল চৌদ্দ। দুই বছর আগে হঠাৎ করে চৈতির বিয়ে হয়ে যায়। শ্বশুরবাড়ি মিরপুর। স্বামী একটা বেসরকারি কলেজে অর্থনীতি পড়ায়। চৈতির বিয়ের পর থেকে সিদ্ধেশ্বরীর ফ্ল্যাটে চামেলি একাই থাকে। সকালে বুয়া এসে ঘরের কাজ-কাম করে দিয়ে যায়।
বুয়া চলে গেলে বাকী সময়টা সে একা একা কাটিয়ে দেয়। খুব বেশি প্রয়োজন না পড়লে ঘর থেকে তেমন একটা বের হয় না। একবার বের হলে এক সপ্তাহের বাজার করে নিয়ে আসে। বিশেষ করে চৈতির  বিয়ের পর থেকে নিঃসঙ্গ জীবন যে কতো ভয়াবহ তা সে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। মাঝে মাঝে তার মনে হয় সে এক নির্জন দ্বীপের বাসিন্দা। যেখানে আপনজন নেই, বন্ধু নেই, শহরের কোলাহল নেই ; আছে কেবল নির্জনতা।
পর পর দুইবার কলিং বেল বেজে উঠলে বিছানা ছাড়ে চামেলি। বুঝতে পারে বুয়া এসেছে। বুয়া কে নির্দেশ দেয়া আছে পর পর দুইবারের বেশি যেন বেল না বাজায়। চামেলি দরোজা খুলে দেয়। বুয়া ঝটপট কাজ শুরু করে দিল। যেন সে কাজ করার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। দশটার মধ্যে কাজ শেষ করে তাকে অন্য বাসায় যেতে হবে। ঐ বাসার কাজ শেষ করে যেতে হবে আরও একটা মেসে। হাত চালিয়ে কাজ না করলে তার দেরি হয়ে যাবে। বুয়া জিজ্ঞেস করল-খালাম্মা রান্নায় কী বসাব ? আইজ কী চৈতি আফা আইবো ?
চামেলির মনেই ছিল না আজ শুক্রুবার। গেল রাতে চৈতি ফোন করেছিল তাও ভুলে গেছে। আজকাল কোনোকিছু মনে রাখতে পারে না। সারাক্ষণ মাথার ভেতর একটা হাল্কা ব্যথা অনুভূত হতে থাকে। তাছাড়া কয়েক মাস ধরে যে সমস্যাটা তাকে খুব বেশি বিব্রত করছে, তা কারো সাথে শেয়ারও করতে পারছে না। একবার ভেবেছিল চৈতিকে বিষয়টা জানাবে। কিন্তু পরে আর বলা হয়নি।
 বিষয়টা কে কিভাবে নেবে চামেলি বুঝতে পারে না। নীলক্ষেতের দিকে একজন ডাক্তার থাকে। নাম জলিল সিকান্দার। ভদ্রলোক ঠিক ডাক্তার না, সব সমস্যার সমাধান দেন টাইপের কন্সাল্টেন্ট। তার চেম্বারের নাম মুশকিল আসান কেন্দ্র। চামেলি পত্রিকা থেকে তার ঠিকানাটা কেটে রেখেছে। কয়েকদিন ধরে ভাবছে তার কাছে একবার যাবে।
বুয়া বেশি কিছু রান্না করার দরকার নেই। ও তো তেমন কিছু খায় না। তুমি রুই মাছের দোপেয়াজা কর, মাংস রান্না কর আর কয়েকটা কাবাব ভেজে রাখ।
আইচ্ছা খালাম্মা। আফনি হাতমুখ ধুইয়া আসেন, আমি টেবিলে নাস্তা দিতাছি।
চামেলি বাথরুমে ঢুকল। বুয়া ব্যস্ত হয়ে গেল নাস্তা বানাতে। বুয়াটা করিৎকর্মা। সব কাজ দ্রুত করে ফেলে। প্রথম প্রথম চামেলি তদারকি করত ; এখন ওসবের আর প্রয়োজন হয় না। বুয়া সবকিছু পরিপাটী কারে রাখে। নাস্তার টেবিলে বসে চামেলি জিজ্ঞেস করল-তোমার মেয়ের জ্বর কমেছে ?
বুয়া মাথা নেড়ে জবাব দিল-না খালাম্মা। মাইয়াডা কাহিল হইয়া পরচে। আইজ সকালে মনে হইল চোখ একটু লাল হইচে।
হাসপাতালে নিয়া যাও। আজকাল ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গেছে। বলা তো যায় না ডেঙ্গুও হতে পারে।
হ খালাম্মা, ভাবতাচি আইজ লইয়া যামু। আমাগো বস্তিতে এক মাস্টার সাব থাকে। ওনিও কইলো ডেঙ্গু।
নাস্তা শেষ করে আজকের সংবাদপত্রটা হাতে নিয়ে চামেলি বেলকনিতে এসে বসে। বুয়া না যাওয়া পর্যন্ত সে এখানে বসে বসে সংবাদপত্র পাঠ করবে। সে প্রথমে খবরের হেডলাইন গুলো পড়ে ফেলে। তারপর ব্যাক পেইজ দেখে। এরপর পৃষ্টা উল্টায় আর চোখ বোলাই। এভাবে পুরো সংবাদপত্র একবার বিচরণ করে আসে। তারপর শুরু করবে মূল পাঠ। বিজ্ঞাপনগুলোও দেখে। চামেলির হাতে প্রচুর অবসর। করার মতো তেমন কাজ নেই। ‘কাজ না থাকলে খৈ ভাঁজ’-তার অবস্থা অনেকটা ঐরকম। সে বসে বসে খৈ ভাঁজে।
গবেষণা না করেও নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠ থেকে তার একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। সে বুঝে গেছে কিছু ঘটনা নিত্য ঘটবে। এগুলোর কোন ব্যত্যয় হবে না। সে দেখেছে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ ও বাস চাপায় পথচারীর মৃত্যু এখন স্বাভাবিক ঘটানা। এর সাথে নৌকাডুবিও যোগ করা যায়। মার্দ্রাসার হুজুর কর্তৃক ছাত্রকে যৌন নিপীড়ন ও শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণ নিয়মিত ঘটছে। বন্দুক যুদ্ধে র‍্যাবের হাতে প্রতিদিন কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে। ধরা পড়ছে ইয়াবা ব্যবসায়ী, বন্ধ হচ্ছে না ইয়াবার চোরাচালান, আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে প্রতিদিন।
‘যুবকের হাত ধরে পাঁচ সন্তানের জননী উদাও’ খবরের উপর চোখ আটকে গেল চামেলির। একি প্রেম, না যৌন অভিলাষ বুঝতে পারে না সে। মাকে হারিয়ে সন্তানদের কী পরিণতি হবে ভাবতেও পারে না চামেলি। সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা-  দায়িত্ববোধ মা কী কখনও ত্যাগ করতে পারে ? সে নিজের কথা ভাবে। আমানের মৃত্যুর পর চৌদ্দ বছরের চৈতিকে নিয়ে সে দশটা বছর কাটিয়ে দিয়েছে।
পুনঃবিবাহের কতো প্রস্তাব পেয়েছিল। চৈতির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রাজী হয়নি। তার চেয়ে কম বয়সী একটা ছেলে রীতিমত তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিল। ছেলেটা জানিয়ে গেছে অপেক্ষা করবে। চামেলির মাঝে মাঝে তার জন্য কষ্ট হয়। চামেলি তাকে অনেক বুঝিয়েছে। বলেছে সে রাজী থাকলে সুন্দরী পাত্রী যোগাড় করে দিবে যাতে বিয়ে করে সংসারী হয়। ছেলেটা কোনো কথা শুনেনি ; শুধু বলেছে তার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
ছেলেটার নাম রাজন। বয়স চামেলির চেয়ে দশ বছর কম হবে। একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করে। এসিস্ট্যান্ট মার্কেটিং ম্যানেজার। মাইনে ভাল। মালিবাগে ছোট একটা ফ্ল্যাটে থাকে। চামেলি দুইবার গিয়েছিল তার ফ্ল্যাটে কেবল তাকে বুঝাতে সে যেন এইসব পাগলামি ছেড়ে বিয়ে করে সংসারধর্মে মনোযোগ দেয়। রাজন আগের কথায় অনড়। সে অপেক্ষা করবে। যদি তা অনন্ত হয় তাতে কোনো অসুবিধা নেই।
 চামেলি রাজনের বেডরুমে নিজের ছবি দেখে অবাক হয়েছিল। রাজন কখন মোবাইলে ছবিটি ধারণ করেছে সে জানে না। অনুমতি ছাড়া ছবি তোলার জন্য রাজনকে ভর্তসনা করেছিল। রাজন ক্ষমা চেয়েছিল। অনুতপ্ত হয়ে বলেছে, একা থাকার চেয়ে ছবির সাথে বসবাস খুব একটা খারাপ না। আপনি না চাইলে সরিয়ে ফেলব। চামেলি অতটা নিষ্ঠুর হতে পারেনি। শুধু বলেছিল তুমি বড্ড পাগল।
বেলকনিতে বসলে দৃষ্টি বাইরের দিকে না গিয়ে পারে না। অবারিত আকাশ, নীলিমায় মেঘের উড়াউড়ি, হঠাৎ দুয়েকটা পাখির উড়ে যাওয়া, দূর আকাশে ধীরে ধীরে উড়োজাহাজের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া-এসবও চামেলির চোখে ধরা পড়ে যায়। তার ফ্ল্যাটের উল্টোদিকে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল। আড়াআড়ি ভাবে তাকালে স্কুলের গেইট দেখা যায়। স্কুলের দেয়ালের পাশ ঘেঁষে কয়েকটা বৃক্ষ দাঁড়িয়ে আছে। শাল না সেগুন চামেলি বোঝতে পারে না। বৃক্ষ সম্পর্কে তার জ্ঞান নেই বললেই চলে। বেশ কিছুদিন ধরে সে লক্ষ্য করছে গাছের নিচে একটা লোক দাঁড়িয়ে থাকে। কখনও সকালের দিকে, কখনও বিকেল থেকে সন্ধ্যে নাগাদ, আবার কখনও রাতেও দেখা যায় লোকটিকে। লোকটি আজ সকালের দিকে এসেছে।
হাল্কা-পাতলা সুপারি গাছের মতো ছিপছিপে শরীর লোকটির। প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় লোকটির শরীর ভেঙ্গে পড়ার কথা। কিন্তু লোকটি টিকে আছে। শরীরের রঙ অসম্ভব ফর্সা। সাধারণত শ্বেতী রোগীদের এরকম ফর্সা দেখায়। লোকটি আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। মাঝে মাঝে সিগারেটে টান দিচ্ছে। আবার রাস্তার এপাশ ওপাশ দেখে নেয়। চামেলি প্রথম যেদিন লোকটিকে দেখেছিল, মনে হয়েছিল ইভটিজার।
নইলে স্কুলের গেইটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে কেন। পরে লোকটির বয়স বিবেচনা করে এই ধারণা বাতিল করে দেয়। লোকটির বয়স কম করে হলেও পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব হতে পারে। এই বয়সে কেউ ইভ টিজের মতো কান্ড করবে তার মনে হয় না। কিন্তু লোকটির উদ্দেশ্য কি তা চামেলিকে বেশ ভাবায়। মানসিক প্রতিবন্ধী কিনা তা সে নিশ্চিত করে বুঝতে পারে না।
চামেলি একটা বিষয়ে অনেকটা নিশ্চিত। যে দিন থেকে লোকটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে এরপর থেকে তার জীবনে ঘটনাটা ঘটতে শুরু করেছে। বিগত রাতেও ঘটেছে ঘটনাটা। শাড়ী-পেটিকোট-ব্রা-ব্লাউজ পরে চামেলি ঘুমাতে পারে না। ঘুমানোর সময় তাকে নাইট গাউন পরতে হয়। গতরাতেও নাইট গাউন পরে ঘুমিয়েছিল। মধ্যরাতে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। দেখে তার ঘর উজ্জ্বল আভায় আলোকিত হয়ে আছে।
 যেন চাঁদের আলো ছাদ ফুঁড়ে তার ঘরে আঁচড়ে পড়েছে। অথচ তার স্পষ্ট মনে আছে রাতে বেডসুইচ অফ করে ঘুমিয়েছিল। হঠাৎ সে লক্ষ্য করল জানালার পর্দার সাথে লেগে একজন মানুষ আকৃতির কেউ দাঁড়িয়ে আছে। আলো নির্গত হচ্ছে লোকটির শরীর থেকে। মনে হচ্ছে কোনো দেবদূত স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে মর্ত্যে। লোকটির চোখ নেই, নাক নেই, মুখ নেই, কিন্তু আকৃতি মানুষের মতো। চামেলি খুব ভয় পেল। জোরে  চিৎকার দিয়ে সাথে সাথে বেডসুইচ অন করল। বৈদ্যুতিক আলোতে জোছনালোকিত লোকটিকে আর দেখা গেল না।
চামেলি থর থর করে কাঁপছিল। সে দ্রুত বিছানা থেকে নেমে আসে। বুঝতে পারল সে নগ্ন। তার নাইট গাউনটি ফ্লোরে পড়ে আছে। সে নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে খুব অবাক হলো। বাম স্তনে চিনচিন ব্যথা অনুভব করল। তাকিয়ে দেখে নিপলের গোঁড়ায় কে যেন কামড় বসিয়েছে। দাঁতের দাগ এখনো লেগে আছে। সে গাউনটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকল অনেকক্ষণ।
কাজ শেষ করে বুয়া চলে গেছে। ঘরে চামেলি একা। সকাল থেকে তার শরীরটাকে ভারী ভারী লাগছে। মনে হচ্ছে শরীরের ভিতর কেউ একজন বসে আছে। ভাবল চৈতি আসার আগেই গোসলটা সেরে নিলে ভাল হয়। সে বাথরুমে ঢুকলো। বাম স্তনটা আবার খুটিয়ে খুটিয়ে পরখ করতে লাগল। কিন্তু দাগের কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারল না। সে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকে। অনেকক্ষণ ধরে সে ভিজতে লাগল। একসময় তার শরীর শীতল হয়ে আসে।
গোসলের পর টিয়ে কালারের সুতি শড়িটা পড়ল চামেলি। হাল্কা প্রসাদনও করলো। ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসলে তার রাজনের কথা মনে আসে। ছেলেটার জন্য মায়া হয়। সে বোঝতে পারে না এ কি সত্যিকার প্রেম, না কোনো ঘোরের মধ্যে আছে রাজন। ঘোর কেটে গেলে ভালোবাসা ফিকে হয়ে যাবে না তো ! রাজন অন্তত তার দশ বছরের ছোট হবে। একটা অসম দাম্পত্য-জীবন ভালোবাসার দাবীতে কতো সময় টিকে থাকতে পারে। এসব ভাবতে ভাবতে সুফিয়া খালার কথা মনে পড়ে তার। খালা ছিল অসম্ভব সুন্দরী।
 এক ছেলে তিন মেয়েকে নিয়ে ছিল সুখের সংসার। খালুর বিষয়সম্পত্তি ছিল প্রচুর। কোনো অভাব ছিল না। খালার ছিল বাগান করার শখ। বাগানের কাজের জন্য রাখা হল একজন মালী। মালিটা একদম তরতাজা যুবক। বয়স বাইশ- তেইশ হতে পারে। খালার বয়স তখন তার দ্বিগুণ। একদিন রাতে সবাইকে ঘুমে রেখে খালা মালীর হাত ধরে পালিয়ে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার। ছয় মাস টিকেছিল তাদের সংসার। তারপর খালা ফিরে এসেছিল বাপের বাড়িতে। খালার পালিয়ে যাওয়ার আঘাত সইতে পারেননি খালু। তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান।  ছেলেমেয়েরা মাকে আর গ্রহণ করেনি। আত্মীয়-স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশীর তিরস্কার শুনতে শুনতে একদিন খালা আত্মহত্যা করে।
হঠাৎ চৈতির ফোন এলো। বলল, মা আজ আসছি না। আমার ননদের হাজব্যান্ড এক্সিডেন্টট করেছে। অবস্থা খুব ভাল না। এখন মেডিক্যালে আছে। আমরা ওখানে যাচ্ছি। তুমিও চলে এসো মা।
অ্যাকসিডেন্ট ! বলিস কি ? কোথায় কিভাবে হলো ?
ফার্মগেট ওভার ব্রিজের কাছে। একটা বাস ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গেছে।
আচ্ছা, ঠিক আছে আমি মেডিক্যালে আসছি।
এখন মধ্যদুপুর। তাপমাত্রা অসম্ভব বেড়েছে। নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে এরকম ভ্যাঁপসা গরম পড়ে। মানব জীবন এক প্রকার বিপর্যস্ত। মেডিক্যাল থেকে বেরিয়ে চামেলি চলে আসে নীলক্ষেত। উদ্দেশ্য জলিল সিকান্দারের চেম্বার খুঁজে বের করা। অনেক পরিশ্রমের পর একটা হলুদ বিল্ডিং এর দুতলায় জলিল সাহেবের চেম্বার আবিষ্কার করল সে। দেখে ওয়েটিং রুমে প্রচুর রোগী। চামেলি সিরিয়াল পেল ২৫ নম্বর। সে হিসাব করে দেখল কল পেতে অন্তত তাকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে সে সিদ্ধান্ত বদলায়। জলিল সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ না করে ঘরে ফিরে আসে।
মানুষের জীবনে কিছু কিছু গোপনীয় বিষয় থাকে। যেগুলো প্রকাশ না হলেই ভাল। চামেলিও চায় না তার জোছনা মানবের কথা কেউ জানুক। সে এখন নিজ থেকেই কামনা করে তাকে। রাত গভীর হলে ভাবে কখন আসবে জোছনা মানব। সে সিদ্ধান্ত নেয় বাকী জীবনটা তার সাথে কাটিয়ে দেবে। কেউ কিছু জানবে না।
——–
লেখক-
আলম তৌহিদ
কবি, প্রাবন্ধিক, গল্পকার
মেইল- alamcxb053@gmail.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *