টুকিটাকি // চার — সুব্রত মজুমদার

টুকিটাকি // চার  --  সুব্রত  মজুমদার
সংস্কৃতের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলা অনেক ক্ষেত্রেই সাবালক। ছন্দের ক্ষেত্রেও সে অনেকটাই সাবলীল। এই সাবলীলতা আনার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রয়াস হল নতুন ছন্দের সৃষ্টি।
এইরকমই বাংলার দুটি  নিজস্ব ছন্দ হল লাচাড়ী ও ধামালী। 
দুটোই ১৪ মাত্রার। বিন্যাস হল : ৪+৪+৪+২=১৪
লাচাড়ীতে ধামালীর মতো অশ্লীলতা নেই। 
উদাহরণ :
‘চান্দর দর্প ছিল কেবল মহাজ্ঞান।
কপটে মনসা দেবী হরিল সে ধন।। 
         – – – বিজয় গুপ্ত 
সুবলদাদা /আনল টেনে/ আদমদিঘির/ পাড়ে,
লাল বাঁদরের/ নাচন সেথায়/ রামছাগলের/ ঘাড়ে।
বাঁদরওয়ালা/ বাঁদরটাকে/ খাওয়ায় শালি/ধান্য,
রামছাগলের/ গম্ভীরতা/ কেউ করে না/ মান্য।
দাড়িটা তার/ নড়ে কেবল,/ বাজে রে ডুগ/ডুগি।
কাৎলা মারে/ লেজের ঝাপট,/ জল ওঠে বুগ্/বুগি।
রামছাগলের/ ভারী গলায়/ ভ্যাভ্যা রবের/ ডাকে
সুড়সুড়ি দেয়/ থেকে থেকে/ চৌকিদারের/ নাকে।
      – – রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
দুটি উদাহরণেই প্রতি পঙ্‌ক্তিতে ৪ মাত্রার ৩টি মূল পর্ব ও ২ মাত্রার ১টি অতিপর্ব রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *