তপ্তশ্বাস মরীচিকা-ঢাকা // অভ্র

তপ্তশ্বাস মরীচিকা-ঢাকা    //   অভ্র

নির্জনতা ভেঙে দিয়ে বাতাস আসেনি আজ, রোদ গেছে বিদেশ ভ্রমণে, 
ঘরের একটা কোণায় পড়ে থাকা তানপুরাটার কথা আছে, ঢের কথা আছে।
প্রিয়তমা,ঘুমোওনি জানি তাই চুপি চুপি গাঢ় রাত্রে শুয়ে বলি, শোনো,
দ্বারস্থ হয়েছি আমি শত কবিতার, ভেবেছি একটা চিঠি তোমার নামে লিখবো । 
আমরা তো দুজনেই প্রকৃতির অনুবর্তী মানব-মানবী, 
মুখোমুখি স্তব্ধ হয়ে বসেও হতে চাই তীব্র আলাপচারী। 
মাঝে-মধ‌্যে সিগারেটের ধোঁয়া, নিমেষে আলগা করে এলো কালো খোঁপা । 
আঁচলের ফাঁকে জমে মসৃণ নগ্নতা যতো, ঢলে পড়ে শাড়ির পাড়ে, শূন‌্যে মিলায় ততো ! 
পৃথিবীর সব আলো নিভে যায়, বারান্দা, বইমেলা সবই জনশূন্য হয়ে পড়ে,
ঠিক যখন তোমার সান্নিধ্যের প্রতিটা মুহূর্তের বিশ্লেষণ করি চিরে চিরে । 
গুমোট বুকের বোতাম খোলা, হাফ গেলাস মদ এখনও যায়নি জল হয়ে । 
বিছানার পাশে রাখা ছোটো সাদা আলোয়
উষ্ণ দেহ এসেছে নিভৃতে,
যেভাবে ঝিনুক থেকে মুক্ত ঝরে নোনা সমুদ্রতটে । 
সময় ভিখারি হয়ে ঘোরে, গালাগাল দেয় এক-গাদা, 
ব্লাউজের নীচে সূক্ষ্মজাল রাত্রির অবগুন্ঠন তপ্তশ্বাস মরীচিকা-ঢাকা !
তোমার সিঁথি দিয়ে বেরিয়ে গেছে অন্তুহীন উদ্যানের পথ, আঙুলে জড়াচ্ছো চুল,
শিহরিত নির্জনতার মধ্যে বুক টনটন করে ওঠে, গোলাপের বৃন্তে নিঃশব্দ পায়ে চলে যায় যৌনতা আর রোদ্দুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *