তৈমুর খান এর তিনটি কবিতা

https://www.sahityakaal.com



হাঁস 

কালের সীমানা জুড়ে হাঁস ওড়ে

রঙিন ডানায় তাদের নীল সহবৎ

আহা উড়ুক উড়ুক সব সমীচীন রাতে

নষ্ট হয়ে যাওয়া আমার অবুঝ সত্তাকে

দেখাতে এসেছি হাঁস, কত স্রোত অনন্তের জলে

কত চাঁদ ডুবে গেল, নক্ষত্রের অক্ষরে লেখা

আকাশ মহিমা কত….

একবার বাজুক হৃদয় , পৃথিবীতে কোথাও

রঙিন ঘর আছে , ঘরে ঘরে এরকম

রঙিন খেচর

একটা দুটো ধরা দেয় , বাকি রহস্যমোচড়

জানা স্বরলিপিতেও বাজে না হৃদয়

চোখে চোখে ব্যাথাজল, কাতর বর্ষায়

ভেসে যায় নৌকারা

হাঁসের ঝরা পালকে চলো মুকুট সাজাই

কেউ না বলুক সম্রাট, মনুষ্যত্ব কেঁপে কেঁপে ওঠে

আমার সাম্রাজ্যে আমি জেগেই ঘুমাই

.

.

সুদেব বক্সীর বিনিদ্র ময়ূর

____________________

শূন্য ঝুলে থাকে ইতিহাসে

ক্যালিফোর্নিয়ার বাতাসে উড়ে আসে পাখি

আমি সেই ভূগোলের জলীয় মেঘে ছবি আঁকি

আমার ছিল নীলকণ্ঠ প্রেমিকা

সাহসের দুর্বার হাঁস

ডানার দীপ্তিতে একরোখা সুর

মনোভূমি জুড়ে রঙিন উল্লাস

বিকেলের টেবিলে সন্ধ্যা নামলে

গ্লাসে গ্লাসে ভার্মিলিনের ঢেউ

আমাদের ভেজানোর গন্ধ ছড়ায়

গন্ধের ভেতর পূজারীর সনির্বন্ধ কম্পন

মালাবার উপকূল হয়ে যায়

নিমীলিত কথনের ভারে

পুুত্রকন্যারা ফিরে আসে রাক্ষস খোক্কসের ঘরে

ভাঙাবুক জুড়ে দেয় দু একটা নিখুঁত পয়ার

চাঁদ ফিরে এলে পাল তোলা নৌকায়

পার হয় নীল রঙের অরাজনৈতিক

সুদেব বক্সীর বিনিদ্র ময়ূর

.

.

ফোড়ন 

কার ভেতর কে জন্ম নেবে

পাড়াপ্রতিবেশী আর গোপন ধর্ষক

জানে না সেসব কাহিনি

শুধু মাছ শুকনো হচ্ছে বলে

গন্ধ পাচ্ছে সবাই

অন্ধকার বুট পরে যাচ্ছে জ্যোৎস্নার কাছে

জ্যোৎস্নার সঙ্গে ওর কী কথা আছে ?

বার্তা তবু ছুটে যাচ্ছে এই বাংলাদেশে

একুশ ফেব্রুয়ারি এসে রঙ লাগাচ্ছে পলাশে

সংযম খুলে দিচ্ছে অসংযমকে তার বুক

মরা হোক জ্যান্ত হোক বিমর্ষ কিংবা উৎসুক

দাঁড়িপাল্লায় চেপে হাঁস যাবে পিকনিকে

রন্ধন প্রণালী বুঝে রান্না হবে লঘু গুরু পাকে

যার যা মরশুম সে-ই তা বোঝে

কার কাছে কে ঘুমাবে ঠিক নেয় খুঁজে

বুঝুক জানালা সব বন্ধ না খোলা

যার সাধ্য তারই বাদ্য

জল শুধু হয়ে যাচ্ছে ঘোলা ।

.

.

তৈমুর খান, নব্বই দশকের কবি হিসেবেই তাঁর পরিচিতি ।প্রথম কাব্যগ্রন্থ :“কোথায় পা রাখি” প্রকাশিত হয় দৌড় প্রকাশনা থেকে ১৯৯৪ সালে। তারপর একে একে প্রকাশিত হয় : বৃষ্টিতরু, খা শূন্য আমাকে খা, আয়নার ভেতর তু যন্ত্রণা, জ্বরের তাঁবুর নীচে বসন্তের ডাকঘর, একটা সাপ আর কুয়াশার সংলাপ, প্রত্নচরিত, নির্বাচিত কবিতা, উন্মাদ বিকেলের জংশন, স্তব্ধতার ভেতর এক নিরুত্তর হাসি, নির্ঘুমের হ্রস্ব ধ্বনি, কাহার অদৃশ্য হাতে, ইচ্ছারা সব সহমরণে যায়, আকাঙ্ক্ষার ঘরের জানালা ইত্যাদি ।পুরস্কার পেয়েছেন : কবিরুল ইসলাম স্মৃতি পুরস্কার, দৌড় সাহিত্য সম্মান এবং নতুন গতি সাহিত্য সম্মান ।ঠিকানা :রামরামপুর (শান্তিপাড়া), ডাকঘর :রামপুরহাট, জেলা বীরভূম, পিন কোড ৭৩১২২৪, পশ্চিমবঙ্গ ।ফোন নম্বর ৯৩৩২৯৯১২৫০, ভারত।

.

.

.

.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *