বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১১ – সিদ্ধার্থ সিংহ

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১ – সিদ্ধার্থ সিংহ — ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২ – সিদ্ধার্থ সিংহ — ক্লিক করুন 
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ  — ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৪ – সিদ্ধার্থ সিংহ –  ক্লিক করুন
 বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৫ – সিদ্ধার্থ সিংহ  — ক্লিক করুন
 বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৬ – সিদ্ধার্থ সিংহ –  ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৭ – সিদ্ধার্থ সিংহ  – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৮ – সিদ্ধার্থ সিংহ  – ক্লিক করুন

বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ১০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক  করুন

Bangla Sahitya

বার্মুদা রহস্য   —  পর্ব –  ১১   –  সিদ্ধার্থ সিংহ

শুধু লা ডাহামাই নয়, তার আগেও এ রকম আরও অনেক ভৌতিক ঘটনা ঘটেছে। যেমন ক্যারল এ ডিয়ারিং। উনিশশো একুশ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা। যাই যাই করেও তখনও শীত রয়ে গেছে। একদিন সকালে নর্থ ক্যারোলিনার উপকূলের কেপ হ্যাটেরাসের গার্ডরা অত্যাশ্চর্য এক দৃশ্য দেখে একেবারে অবাক। তাঁরা দেখলেন, সমুদ্রের তীর বরাবর ডায়মন্ড সোলস নামক একটি জায়গায় পাঁচ মাস্তুলওয়ালা একটি জাহাজ ভাসছে।
জাহাজটি সুনার জাতীয়। এমনিতে কোনও জাহাজ জেনেশুনে এখানে আসে না। কারণ, এখানে কুখ্যাত জলদস্যুদের বাস। জাহাজ দেখলেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে। লুঠপাঠ চালায়। শুধু নাবিক নয়, যাত্রীদেরও ভয়াবহ ভাবে খতম করে। তা ছাড়া জায়গাটি খুব বিপজ্জনকও। যখন তখন সমুদ্রিক ঝড় শুরু হয়। আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়। আশপাশে যা থাকে সব তালগোল পাকিয়ে যায়। ফলে জাহাজের নাবিকরা এই অঞ্চলটিকে এড়িয়েই চলেন।
শুধু লা ডাহামাই নয়, তার আগেও এ রকম আরও অনেক ভৌতিক ঘটনা ঘটেছে। যেমন ক্যারল এ ডিয়ারিং। উনিশশো একুশ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা। যাই যাই করেও তখনও শীত রয়ে গেছে। একদিন সকালে নর্থ ক্যারোলিনার উপকূলের কেপ হ্যাটেরাসের গার্ডরা অত্যাশ্চর্য এক দৃশ্য দেখে একেবারে অবাক। তাঁরা দেখলেন, সমুদ্রের তীর বরাবর ডায়মন্ড সোলস নামক একটি জায়গায় পাঁচ মাস্তুলওয়ালা একটি জাহাজ ভাসছে। জাহাজটি সুনার জাতীয়। এমনিতে কোনও জাহাজ জেনেশুনে এখানে আসে না। কারণ, এখানে কুখ্যাত জলদস্যুদের বাস।
জাহাজ দেখলেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে। লুঠপাঠ চালায়। শুধু নাবিক নয়, যাত্রীদেরও ভয়াবহ ভাবে খতম করে। তা ছাড়া জায়গাটি খুব বিপজ্জনকও। যখন তখন সমুদ্রিক ঝড় শুরু হয়। আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়। আশপাশে যা থাকে সব তালগোল পাকিয়ে যায়। ফলে জাহাজের নাবিকরা এই অঞ্চলটিকে এড়িয়েই চলেন। কারণ, একবার এখানে ঢুকলে ভালয় ভালয় বেরিয়ে আসা সত্যিই খুব মুশকিল। তা হলে এত বড় একটা জাহাজ এখানে এল কী করে ! 
তবে কি ঝড়ের টানে ভেসে এসেছে! কিন্তু গত কাল রাতে তো এমন কোনও ঝড়ঝাপ্টা হয়নি যে তেমন কিছু ঘটবে! ঘটলে তার কোনও না-কোনও চিহ্ন থাকত! জাহাজের পালগুলো তো ফুলছে, অথচ জাহাজটা একটুও এগোচ্ছ না কেন! সামনের দিকটা কি চোরাবালিতে আটকে গেছে!
সঙ্গে সঙ্গে ওঁরা কাজে লেগে পড়লেন। কী হয়েছে খোঁজখবর নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে এক্ষুনি রিপোর্ট পাঠাতে হবে তাঁদের। জাহাজে নিশ্চয়ই লোকজন আছেন। আগে তাঁদের উদ্ধার করতে হবে। তার পর না হয় দেখা যাবে কী হয়েছে। কোস্টগার্ডরা তাড়াতাড়ি করে লাইফবোটে চেপে রওনা হয়ে গেলেন। কিন্তু জাহাজের কাছাকাছিও পৌঁছতে পারলেন না তাঁরা। সমুদ্র হঠাৎ অশান্ত হয়ে উঠল।
দুর্যোগ একটু শান্ত হতেই জাহাজের চারশো গজ দূর থেকে দূরবীন দিয়ে জাহাজটাকে ভাল করে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন তাঁরা। বেশি কাছে গেলে নিজেদেরই বিপদ হতে পারে। তাই দূর থেকেই মুখে মেগাফোন লাগিয়ে বারবার ঘোষণা করতে লাগলেন, জাহাজের ভিতরে কেউ থাকলে ডেকের সামনে এসে দাঁড়ান অথবা ডিসট্রেস সিগন্যাল দিন।
কিন্তু জাহাজ থেকে কোনও উত্তর ভেসে এল না। ওঁরা বুঝতে পারলেন, ওখানে কোনও লোক নেই। জাহাজটিকে ঘিরে ওঁরা পাক খেতে লাগলেন। হঠাৎ দেখা গেল, জাহাজের বাঁ দিকে একটা লম্বা মই ঝুলছে। যেখানে লাইফবোট থাকার কথা, সেখানে একটাও লাইফবোট নেই। তা হলে! আরোহীরা গেলেন কোথায়! তাঁরা কি আগাম কোনও ভয়ের পূর্বাভাস পেয়ে জাহাজ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন!
জাহাজটির অবস্থা মোটামুটি ভালই। 
ঝড়ে যদি পড়েও থাকে, সে রকম কোনও ক্ষতি হয়নি। তবু তাঁরা জাহাজের ভিতরে ঢুকতে পারলেন না। ব্যর্থ হয়ে ফিরে এলেন। মেরিন রেজিস্টার খুলে দেখা গেল, এই জাহাজের মালিক মেন স্টেটের পোর্টল্যান্ডের জি ডিয়ারিং কোম্পানি। দুজন মিলে কোম্পানিটি চালান। একজনের নাম জি জি ডিয়ারিং। আর অন্য জনের নাম ক্যাপ্টেন উইলিয়ম মেরিট। 
জি জি ডিয়ারিঙের ছেলের নামেই জাহাজের নামকরণ করা হয়েছে— ক্যারল এ ডিয়ারিং। জাহাজটির যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্যও পাওয়া গেল। দু’হাজার একশো চোদ্দো টনের এই জাহাজটি উনিশশো কুড়ি সালে বাথ বন্দরে তৈরি হয়েছে। খরচ পড়েছে প্রায় দু’লক্ষ ডলার।
সঙ্গে সঙ্গে ডিয়ারিং কোম্পানিকে এই ঘটনার বিবরণ জানালেন তাঁরা। ক্যারোলিনার উইলমিংটন থেকে তৎক্ষণাত নানা রকম সরঞ্জামে ভর্তি অত্যাধুনিক নৌকো নিয়ে বেরিয়ে পড়ল এক দল সুদক্ষ উদ্ধারকারী। জাহাজে উঠে তন্নতন্ন করে খুঁজেও দুটি বেড়াল ছাড়া তাঁরা আর কোনও প্রাণের স্পন্দন পেলেন না।
সবার মনেই প্রশ্ন উঁকি দিল, জাহাজের যাত্রীরা কী এমন দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠেছিলেন যে, আসন্ন মৃত্যু-ভয়ে জাহাজ ছেড়ে তাঁরা পালিয়ে গিয়েছিলেন, অথবা ভয়াবহ যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুটাকেই শ্রেয় মনে করেছিলেন। তাঁরা কী করবেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নিশ্চয়ই দু’-চার মিনিট সময়ও হাতে পাননি।
কারণ, টেবিলে সার সার খাবার সাজানো ছিল। বোঝা যাচ্ছিল, লাঞ্চ অথবা ডিনার করার সময় আরোহীরা জাহাজ ছেড়েছিলেন। কেউ কোনও খাবারে হাত পর্যন্ত দেননি। খেতে বসেও হঠৎ চেয়ার ছেড়ে যেন উঠে পড়েছিলেন। রান্নাঘরেও পরিবেশণের জন্য বেশ কিছু খাবার রেডি করা ছিল। কোনও কোনও ঘরে তখনও আলো জ্বলছিল। কয়েকটা কেবিন দেখে তাঁদের মনে হল, অফিসাররা বুঝি খেতে গেছেন। এক্ষুনি ফিরে আসবেন।
খুঁজতে খুঁজতে পাওয়া গেল বেশ কিছু দরকারি কাগজপত্র। চার্ট এবং সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি। তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে হদিশ পাওয়া গেল না অফিসার ও নাবিকদের লাগেজ। ক্যাপ্টেনের বড় ট্রাঙ্ক এবং ঢাউস একটা ক্যাম্বিজের ব্যাগ। এগুলো তো অত্যন্ত ভারী জিনিস। সত্যিই যদি ওঁরা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে মুহূর্তের মধ্যে জাহাজ ছেড়ে থাকেন, তা হলে ওঁরা ওগুলো নিয়ে গেলেন কী করে! কারণ, মৃত্যু যখন দোরগোড়ায়, তখন কারওরই লাগেজ নেওয়ার কথা মনে থাকে না।
তবে একটি কেবিনে কয়েক জোড়া রবারের বুট পাওয়া গেল। মনে হল, একটু আগেই বুঝি কেউ এগুলো খুলে রেখে গেছে। কিন্তু এ ধরনের জুতো তো জাহাজের নাবিক বা অফিসারেরা পরেন না! তা হলে কি অন্য কোনও লোক এই জাহাজে উঠেছিলেন! যাবার সময় খুলে রেখে গেছেন! কেবিনের মধ্যেই পাশের এক চিলতে জায়গায় কেউ একজন ঘুমিয়েছিলেন। বালিশ আর আলুথালু চাদর দেখেই সেটা স্পষ্ট বোঝা গেল।
কিন্তু ওই জাহাজের কারও পক্ষে ও রকম জায়গায় শোওয়ার কথা নয়। তা হলে যিনি শুয়েছিলেন, তিনি কে! জাহাজে একখানা নেভিগেশন চার্ট পাওয়া গেল। দেখা গেল, জাহাজের পরিচালক ক্যাপ্টেন ওয়ারমেল তাতে কী যেন লিখেছেন! কিন্তু পরে দেখা গেল ওটা তাঁর হাতের লেখা নয়। হস্তাক্ষরটা অন্য কারও। কিন্তু কার! আগেরগুলোর মতো এটাও রহস্যই থেকে গেল। জাহাজ সম্পর্কে কোস্টগার্ডরা একটার পর একটা অনেকগুলো তথ্য জোগাড় করলেন। তাঁরা পর পর তা সাজিয়ে দিলেন—
আগের বছর অর্থাৎ উনিশশো কুড়ি সালের আগস্ট মাসে ভার্জিনিয়ার নিউপোর্ট নিউজ বন্দর থেকে কয়লা বোঝাই করে এই জাহাজটি দক্ষিণ আমেরিকার রিও ডি জেনিরো বন্দরের দিকে রওনা হয়। জাহাজ ছাড়ার পর থেকেই কিছু কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করে, বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা চলে না। জাহাজটা যখন ডেলাওয়ার স্টেটের নিউয়েস বন্দরে থামল, তখন জাহাজের ক্যাপ্টেন উইলিয়ম মেরিট হঠাৎ এক অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন।
তক্ষুনি তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হল। তিনি হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মারাত্মক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন তাঁর ছেলেও। তিনি ছিলেন জাহাজের ফার্স্ট মেট। তাঁকেও ভর্তি করা হল হাসপাতালে। ক্যাপ্টেন ছাড়া জাহাজ যাবে কী করে! তাই লিউয়েস বন্দরে জাহাজটি আটকা পড়ে গেল।
ডিয়ারিং জাহাজ থেকে পোর্টল্যান্ডের হেড অফিসে খবর পাঠানো হল, ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট মেট অসুস্থ। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জাহাজ ছাড়া যাচ্ছে না। যে কোনও একজন ক্যাপ্টেনকে পাঠান।
কিন্তু ক্যাপ্টেন তো আর হাতের মোয়া নয় যে, চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে। তবু সদর দফতর থেকে তড়িঘড়ি করে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেনকে পাঠিয়ে দিল। নাম উইলিয়াম বি ওয়ারমেল। বোস্টনে বাড়ি। বয়স তেষট্টি। উনি তাঁর কৈশোর থেকে যৌবন, সারাটা জীবনই সমুদ্রের বুকে কাটিয়েছেন। যত না ডাঙায় থেকেছেন, তার চেয়ে বেশি থেকেছেন জলে।

চলবে  ………

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১ – সিদ্ধার্থ সিংহ — ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২ – সিদ্ধার্থ সিংহ — ক্লিক করুন 
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ  — ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৪ – সিদ্ধার্থ সিংহ –  ক্লিক করুন
 বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৫ – সিদ্ধার্থ সিংহ  — ক্লিক করুন
 বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৬ – সিদ্ধার্থ সিংহ –  ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৭ – সিদ্ধার্থ সিংহ  – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৮ – সিদ্ধার্থ সিংহ  – ক্লিক করুন

বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ১০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক  করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *