বাহান্নের মা

Saddam bissas

#বাহান্নের_মা
#সাদ্দাম_বিশ্বাস

আজকের গোধূলি বিকেল
আমাকে অফুরান সময় দিয়েছে কথা বলার,
খুব সুনসান একটা বিকেল মা সেদিনের গল্প বুনছিল নকশীকাঁথা ফোরে ফোরে।
খুব রেগে গিয়ে শুধু বলেছিলাম,কি এঁকেছো কাঁথা জুড়ে?
হিজিবিজি সব রক্তের খেলা রাজপথ জুড়ে মরাদের পল্লি।
মা শুধু এটুকু বলেছিল,
ভাষার গাঁথা দিলাম এঁকে মমতার উলে,
ঢেকে রাখ সে কাঁথা পুরো শরীর জুড়ে।
অপূর্ব সেই কাঁথাখানি উপলব্ধির দৃষ্টি তুলে দেখে নেই আরবার।
তখনই প্রেমগোঞ্জা বিকেলটা আমার
সম্মুখ সমরে রক্তাক্ত হয়ে উঠে।
এতোকাল আমি জমে আছি মজে আছি যে ভিনভাষী প্রিয় লিরিকে।
একটি কথাকবিতার আঘাতে সে ঘরে হঠাৎ,
দিয়ে গেল বিজুলি দোল।
ব্যাকুল হয়ে ডুব দেই সেই শব্দসাগরে,
শুধু জাগে মনে কেমন অনাবাদি আছে জীবনের ক্ষেতে মৃত্যু শব্দ শস্যগুলো,
ওরা কারা,যারা ভয়ংকর আগুনের কুণ্ডলীতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল চেতন মনে।
মায়ের মুমূর্ষু দেহ হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রেখে মিছিলে যোগ দিয়েছিল।
একটি দাবীতে সরব হয়ে ক্ষুধার্ত রাক্ষসের পেটে ঢেলে দিয়েছে ব্যারল ব্যারল রক্ত।
তৃষ্ণিত বক্ষ হতে মা নিজের আঁচল কেটে কাফনের কাপড় করেছিল মৃত ছেলের জন্য।

বিষ্ময়ে তাকিয়ে ছিল দুনিয়া!
এমনও মা আছে যে ছেলের জন্য নয়,
ভাষার জন্য।
দৃঢ়ভাষ্যে রক্তাক্ত করে মাতৃত্ব।
জায়নামাযে কাঁদেনি দুখিনী,শুধু চেয়েছে মা শব্দের ইজ্জত।
একটি সহস্রাব্দের আগে জন্ম নেওয়া পাণ্ডুলিপির জন্য সম্মান,
একটা রক্তাক্ত গল্প লিখতে মুঠো মুঠো বর্ণ ধুলি,
একটি কবিতার ক্ষেত রোপণ করতে দুটো জোয়ানের শবদেহ।

অনায়াসসাধ্য কিছু শব্দ শস্যদানায়
বৈকালি রক্ত গোধূলির পানে অপলক চেয়ে থাকা কোন নবীন কবির দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।
লিখে যাবো এক মায়ের করতলে বয়ে যাওয়া রক্ত সোঁতার গল্প।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *