বিবেক- দর্শন // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

বিবেক- দর্শন  //  সত্যেন্দ্রনাথ পাইন
 সব মিথ্যে। সব অলীক।
   ঘর সংসার, বিষয় সম্পত্তি, ও ধনরত্ন, আত্মীয় পরিজন সব সব তুচ্ছ মায়ার বাঁধন। জগৎ সংসার দীর্ঘ মায়াময়।সব ত্যাগ কর।
 সব ই অসাড়।
 
 জাত – ধর্ম, পাওয়া না পাওয়া, বিদ্যা অবিদ্যা, গর্ব, সংস্কার , সবই তোমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে  কারাগারে বন্দি রেখেছে। ভুলে যাও ওদের। এখান থেকে মুক্তি চাও না ? ভালো করে চোখ মেলে তাকাও– দেখবে এই অট্টালিকা কে তুমি চাকরি করার জন্য বেছে নিয়েছ।ছুটি হলেই বাড়ি ফিরতে হবে।
 
   তখন বললে চলবে না– ” যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো? ” যেতে তোমাকে হবেই প্রবাস থেকে নিজ বাসে-নিজ গৃহে।
   মোহ মুক্ত হও।
 
  মহাকাল পাশে দাঁড়িয়ে অট্টহাসি হাসছে। চিতার লেলিহান শিখা আকাশপানে লুব্ধ জিহ্বায় তোমার জন্য অপেক্ষারত। প্রাণবায়ু চলে গেলেই কলার খোসার মতো তুমি জঞ্জালে নিক্ষিপ্ত হবে।
  তৈরি থাক। আয়নার সামনে দাঁড়াও- দেখ, নিজেকে চিনতে পার কিনা। চিমটি কেটে নিজেকে প্রশ্ন কর- তুমি কে? তুমি কার? কেন এখানে এসেছ। ? কী তোমার কাজ? 
   কোনো উত্তর পাচ্ছ না—?
 
  তোমার ভিতরের “আমি”টাকে খুঁজে রাখ। ও বড় ছেলেমানুষ।যখন তখন যেখানে সেখানে চলে যায়। মসৃণ এ পৃথিবীতে পা পিছলে পড়ে হাত পা ভাঙতে পারে- ওকে কচি ছেলে ভেবে আগলে রাখ সর্বদা। দেখবে, ও তোমাকে পথ দেখাবে।” অন্ধের যষ্টির মত তোমার সাথে সাথে থাকবে।
  ওর একটা সুন্দর নাম আছে- বিবেক। কাঁচের বোতলের ভিতরে জল যেমন। শরীরের ভিতরে সে পরিশুদ্ধ। তোমার শরীরটাকেও কাঁচের  মত স্বচ্ছ করতে পারলেই ওকে দেখতে পাওয়া যাবে।
 আত্মা পরমাত্মার মিলন হবে।
মনে হবে—-
 
  হৃদয় আজি মোর কেমনে গেল খুলি,
 জগৎ আমি সেরা করিছে কোলাকুলি
প্রভাত হল যেই কী জানি হল একি
আকাশ পানে চাই কী জানি কারে দেখি।
 
তিমির রাত্রি অবসানে প্রভাত ফুটে বেরুবে। টাকা টাকা আর টাকা! ত্যাগ কর এই মহামন্ত্র।জট কর ঠাকুরের। শুনতে পাবে—–
 কী জানি কী হল আজিজাগিয়া উঠিল প্রাণ-
 
দূর হতে শুনি যেন মহাসাগরের গান।
      ওরে  চারিদিকে মোর
        একী কারাগার ঘোর–
ভাঙৃ ভাঙ্ কারা, আঘাতে আঘাত কর্।
ওরে আজ কী গান গেয়েছে পাখি
    এসেছে রবির কর।
বড় আমি আর ছোট আমি মিলেমিশে এক হয়ে যাবে। বিবেক জাগ্রত হবে।
  রামপ্রসাদের কথায়—
ভেবে দেখ মন কেউ কারো নয়,
মিছে ভ্রম ভূমন্ডলে।
ভুল না দক্ষিনাকালী বদ্ধ হয়ে মায়াজালে।।
……….. ।।।।।।।।।……………!!!!!!!!!
যার জন্য মর ভেবে, সেকি তোমার সঙ্গে যাবে
সেই প্রেয়সী দেবে ছড়া অমঙ্গল হবে ভেবে
 
ষ্টেশনে পৌঁছলেই যাত্রীরা নেমে যায় ,কামরা ফাঁকা পড়ে থাকে। প্ল্যাটফর্ম শুনশান। তোমার পরিণতিও তাই।
 
 বৌদ্ধরা ভাবেন—life and death are seen as one whole, where death is the beginning of another chapter of life. Death is a mirror in which the entire meaning of life is reflected. কিন্তু  আমরা
ভুলে যাই সেই পরম সত্যটা।
 
 
   Most people die unprepared for death, as they have lived unprepared for life.
  যত ধনশালী বিত্তশালী হোও না কেন পৃথিবীর কিছু যায় আসে না। পাহাড়ে, সমুদ্রে বেড়াতে গেলে তাদের কোনো ক্ষতি বৃদ্ধি হয় কি? তারা অপরিবর্তিতই থাকে। তোমার যা কিছু ক্ষয় বৃদ্ধি তৃপ্তি।
  এই সংসার সমুদ্রেও তুমি সেই রূপ। বিবেক জাগ্রত কর– ঠাকুরের শরণাপন্ন হও। মানুষকে ভালবাস। ভগবৎ প্রেমে হাবুডুবু খাও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *