বুক রিভিউ (কবি অনিমেষ মণ্ডলের কাব্য)

নিজেকে বিস্তৃত করার এক প্রাজ্ঞ অনুভব 
তৈমুর খান 
 
অনিমেষ মণ্ডল কবিতায় অনেকটাই পথ অতিক্রম করেছেন। তাঁর দশম কাব্যগ্রন্থ “গাছের পাতারা জানে”(২০১৮) এক আনন্দমুহূর্তের নিবেদন বলে মনে হল। নিজেকে বিস্তৃত করার এক প্রাজ্ঞ অনুভব এই কাব্যটিতে টের পেলাম। অনিমেষ প্রত্নজীবনের স্বতশ্চল বারান্দা থেকে খোঁজ করেন তাঁর আবহমান সত্তাকে ।সেখানে কখনও দ্রাবিড় আলো পড়ে, কখনও নিষিক্ত হয় প্রবৃত্তির অমোঘ টান :
 
“রোহিনী নক্ষত্রের শান্ত জল 
আর আমি সেই নক্ষত্রবীথিকার নিচে শুয়ে 
গতজন্মের কথা ভেবেছি 
আগামী জন্মের মায়ের কথাও ভেবেছি”
 
এই ভাবনার ব্যাপ্তি কখনও ফুরোয় না। তাঁর যাপিত জীবনের ক্ষণগুলি “ছোটবেলার জোনাকি” হয়ে ঘুরতে থাকে। পাখিদের ভাষা পায় । পাতার জালিকার লেখায় উচ্চারিত হয়। 
 
খুব সংযমী মহাশূন্যের ভেতর এক উদাস বৈরাগ্যের তীর্থে কবি তাঁর সংরাগলিপির বারোমাস্যা লিখে চলেন। খুব আন্তরিক আর সুগভীর প্রত্যয়ের বন্দনা হয়ে ওঠে কবিতাগুলি। কিন্তু অনিমেষ কেন এত তুলনা বাচক ও সংশয় বাচক অব্যয় ব্যবহার করেন? অনেক ক্ষেত্রেই কবিতার প্রবল সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দেয় এই শব্দগুলি। অনিমেষ লিখেছেন :
১) নম্র ধ্বনির মতো 
২) যেন কেউ নোঙর করেছে 
৩) নাকি গল্পে গল্পে বলেছি শুধু 
আরও ভূরি ভূরি আছে এই শব্দগুলি। কাব্যের প্রথম কবিতায় আছে :
 
“এই বৃষ্টিভেজা লেবুগাছ 
যেন আজ প্রথম সন্তানের জননীর মতো 
জানালার ধারে এসে দাঁড়িয়েছে…”
 
মাঝের পংক্তিটি যদি এমন হতো :
 
“আজ প্রথম সন্তানের জননী”
 
তা হলেই ভালো হতো। আশা করি পরবর্তীতে তাঁর কবিতা আরও পূর্ণতা পাবে।
_____________________________________
“গাছের পাতারা জানে” কাব্যটিতে ধরে আছেন ছবিতে মাঝখানে স্বয়ং কবি অনিমেষ মণ্ডল। কাব্যটির প্রকাশক আলো পথিবীর কর্ণধার শুভদীপ সেনশর্মা ডানদিকে ও বামদিকে আমি তৈমুর খান। কাব্যটির মূল্য ৩০ টাকা।
 
 
 কাব্যটি ধরে আছেন কবি অনিমেষ মণ্ডল ছবির মাঝখানে। 
 
 
 
 
 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *