মেষের রাখাল — সুব্রত মজুমদার

sahityakaal.com

চার্চ হতে বেরোবার সময়ই জনাথন বলেছিল, “ফাদার, আজ আর বেরোবন না। আজ দিনটা ভালো নয়।”  ফাদার কান দেননি জনাথনের কথায়। তিনি বলেছিলেন, “আমি না গেলে হবে না জনাথন, টমের সিস্টার এমিলিকে বাঁচাতে হবে।” 
 
ফাদার দিয়াগো রডরিগ গোয়াভেলহা শহর হতে কুড়ি বাইশ মাইল দূরে একটা গ্রামের  ক্যাথলিক চার্চের ফাদার। মাণ্ডবী নদীর তীরে প্রাচীন চার্চটিতে সেই যে কত বছর আগে প্রথম প্রার্থনাটি হয়েছিল তা কেউই বলতে পারবে না। আশেপাশের পর্তুগীজ বংশোদ্ভূত গোয়ানীজদের এটাই একমাত্র চার্চ। বড়দিনের সময় অনেকেই অনেক দূরে শহরের চার্চে গেলেও যেকোনো সমস্যায় এই চার্চটিই ভরসা। 
চার্চ হতে কিলোমিটার পাঁচেক দূরে ছোট্ট একটা গ্রামে থমাসের ঘর।
 
 
 
থমাস বা টমের বোন এমিলি আজ দিন পনেরো হতে অসুস্থ্য। ঠিক অসুস্থ্য বললে সেটা ভুল বলা হবে। রোগটা কোনও শারীরিক রোগ নয়, মানসিক বললেও খুব একটা যে  সঠিক বলা হয় এমন নয়। কি যে বলা যায়…. কি যে বলা যায়……
যাইহোক ও নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে। মাথা যিনি ঘামাচ্ছেন তার কথাতেই আসা যাক। ফাদারের দৃঢ় ধারণা এমিলির উপর শয়তানে ভর করেছে। তিনি হিসাব করে দেখেছেন, আর দিন তিনেক পেরোলেই শয়তান এমিলির আত্মাকে নিজের অধীনে করে নেবে। তখন সে হাত বাড়বে অন্য কারোর দিকে। এ এক মহামারী। 
 
 
এদিকে জনাথনও ফাদারকে বেরোতে দিতে চাইছিল না। এর কারণটা ফাদার জানেন। আজ শুক্রবার, তাতে আবার জুনের ছয় তারিখ, – খুবই খারাপ সময় । নিউমারোলজি অনুসারে শুক্রের নাম্বার ছয়, আবার জুনমাসও ছয়নম্বর মাস। সুতরাং আজ সেই ৬৬৬ এর অপয়া যোগ এসেছে। সুতরাং জনাথনের কথা ফেলে দেবার নয়। কিন্তু জীবনের চেয়েও বড় হল কর্তব্য। তাই আজ যাই হোক না কেন এমিলিকে দেখতে তিনি যাবেনই।
 
গতকালই পূর্ণিমা গেছে, সাদা মেঘের স্তর ভেদ করে  গোল থালার মতো চাঁদ উঠেছে আজ। মাণ্ডবী নদীর তীর বরাবর ডাইনামো লাগানো সাইকেলে করে এগিয়ে চলেছেন ফাদার রডরিগ। গাছগাছালির উপর জ্যোৎস্নার আলো পড়ে একটা মোহময় আলোআঁধারি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মাঝে মাঝেই এক আধটা খরগোশ এক ঝোপ হতে বের হয়ে আরেক ঝোপে ঢুকে পড়ছে।
 
ফাদার সাইকেলটা থামালেন। রাস্তার উপর কিছু একটা পড়ে আছে। সাইকেল হতে নেমে জিনিসটার কাছে গেলেন। একটা কাঠবাদাম কাঠের পুতুল। পুতুলটা খুব চেনা চেনা লাগল ফাদারের। কোথায় যেন দেখেছেন। কিন্তু কোথায় ? না মনে পড়ছে না।
 
পুতুলটা হাতে করে এগিয়ে গেলেন সাইকেলের দিকে। একটা মুছে যাওয়া অতীতকে হাঁতড়ে চলেছেন তিনি। সাইকেলে উঠতেই তার অচেতন মস্তিষ্ক হতে চেতন মস্তিষ্কে যে তথ্যটি উঠে এল সেটা কাঁপন ধরিয়ে দিল ফাদারের শরীরে। এমিলিয়া । না এ থমাসের বোন এমিলি নয়, এ তার কৈশোরের সঙ্গিনী এমিলিয়া।
 
এমিলিয়া ছিল রডরিগের পাশের বাড়ির ডাক্তার পিতার একমাত্র কন্যা। ফাদার তখনও দিয়াগো রডরিগ হয়ে ওঠেননি। তিনি তখন লিসবনের এক সাধারণ স্কুল মাষ্টারের ছেলে। লুইসিয়ানো ডি’কোস্টা। সুন্দরী কিশোরী এমিলিয়ার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন তিনি। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করা, চুলের উপর আলতো করে বিলি কেটে বলা, “আমি তোমায় খুব খুব খুব ভালোবাসি এমিলি। ইউ তে আমা মিতো।”
এমিলি দাঁত দিয়ে ঘাসের ডগা খুঁটতে খুঁটতে বলত, “তে আমো মিতো।”
 
 
হঠাৎ করে প্যাঁচার কর্কস আওয়াজে সম্বিত ফেরে ফাদার রডরিগের। হাতের দিকে নজর যেতেই আঁতকে ওঠেন তিনি। একি ! কোথায় পুতুল ? ফাদারের হাতে একটা মরা প্যাঁচা। তড়িঘড়ি ছুঁড়ে ফেলে দিলেন সেটিকে। বুকে ক্রস আঁকলেন তিনি।
“ও গড প্লিজ সেভ মি। আমি আমার আত্মাকে পবিত্র ঈশ্বরের, ঈশ্বররপুত্রের ও পবিত্র আত্মার স্মরণে আনছি। আমেন।”
ফাদার এগিয়ে চললেন। আজ যাই হোক না কেন সাইকেল তিনি থামাবেন না। এমিলিকে বাঁচাতে হবে।এক এমিলিকে তিনি বাঁচাতে পারেননি, এবার কোনোভাবেই ব্যর্থ হলে চলবে না। সেই সুদূর লিসবনের একটা ফুটফুটে মেয়েকে চলে যেতে হয়েছে নরকের অতলান্ত গহ্বরে, কিচ্ছু করতে পারেননি তিনি।
 
নরকের দ্বার উন্মুক্ত করে যে পাপ তিনি সেদিন করেছিলেন আজও সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে চলেছেন। সেদিন তিনি ছিলেন বছর বাইশের তরতাজা যুবক, আর আজ তিনি বাহাত্তর বছরের এক লোলচর্ম বৃদ্ধ। বয়স তাকে দিয়ে রাখতে পারেনি। আজও যেখানে  শয়তানের পদধ্বনি শুনতে পান সেখানেই ছুটে যান অবলীলায়।
 
হঠাৎ করে চিন্তাসূত্রে ছেদ পড়ল। ব্রেক কষলেন সাইকেলে। সামনেই রাস্তার উপর পড়ে রয়েছে আধখাওয়া একটা লাশ। নাভি হতে পায়ের দিকটা নেই। সাইকেল নিয়ে দাঁড়াতেই লাশটা যেন নড়েচড়ে উঠল। তারপর হঠাৎ করে কোমরের উপর ভর করে উঠে বসল। সে এক বিভৎস দৃশ্য। এই পৌষের রাতেও ফাদারের কানের পাশ দিয়ে স্বেদবিন্দু গড়িয়ে পড়তে লাগল।
লাশটা একটা জড়ানো গলায় বলে উঠল, “কষ্ট…. বড় কষ্ট ফাদার।”
 
 
ফাদার কি বলবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তিনি আবার বুকে ক্রশ আঁকলেন। গলার ক্রশটা নিয়ে চুমু খেয়ে কপালে ঠেকালেন তিনি। লাশটা আবার আর্তনাদ করে উঠল। তারপর বেদনামিশ্রিত গলায় বলল, “কি হল ফাদার….”
ফাদার করুণামিশ্রিত গলায় বললেন, “আমি তোমার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি মাই চাইল্ড। ঈশ্বর তোমাকে নরকের আগুন হতে উদ্ধার করুন। আমেন।”
 
 
 
লাশটা আরো কঁকিয়ে উঠল। ফাদার লক্ষ্য করলেন সেই লাশটার দেহটা একটা লোহার চেইন দিয়ে বাঁধা। আর সেই চেইনের শেষপ্রান্ত যার হাতে সে অন্ধকার ঝোপ হতে বেরিয়ে আসছে। মূর্তিমান শয়তান। সহসা মস্তিষ্কের কোষে কোষে বিদ্যুৎতরঙ্গ খেলে গেল। মনে পড়ে গেল সেই রাতের কথা।
লিসবনের অদূরে একটা পরিত্যক্ত গীর্জা, সেই গীর্জায়  রাতের অন্ধকারে হানা দিয়েছিল দুজন, – এদের একজন ফাদার রোজারিও আর অন্যজন সদ্য যৌবনের স্বাদ পাওয়া লুইসিয়ানো ডি’কোস্টা। ফাদার রোজারিও তাকে বলেছিল নরকের দরজার কথা।
 
 
“কি বলছেন ফাদার, নরকের দরজা ! ইন্টারেস্টিং।” উৎসাহিত হয়ে বলেছিল লুইসিয়ানো। তার মনের ভেতরের অভিযাত্রী সত্ত্বাটা জেগে ওঠে। ফাদার বলে চলেন।
“লিসবন ছাড়িয়ে যে শহরতলী আছে, সেই শহরতলীর পাশেই আছে একটা প্রাচীন চার্চ। ১৩০৭ সালে নাইটস টেম্পলারদের উপর প্রচণ্ড অত্যাচার শুরু হলে এদের একজন চলে আসে এই চার্চে। সে একটা হাতিরদাঁতের ছুরি দিয়ে অঙুল কেটে সেই রক্ত ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করে এই অত্যাচারের প্রতিশোধ নেওয়ার। এরপরই শুরু হয় গোপন ব্ল্যাক ম্যাজিক। উদ্দেশ্য একটাই, – নরকের দরজা খোলা। 
 
সেই টেমপ্লারের দ্বিতীয় প্রজন্ম সফল হয় নরকের দরজার অর্গল উন্মোচনে। কিন্তু ততদিনে প্রতিশোধের আগুন নিভে এসেছে। তড়িঘড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয় নরকের দরজা। আজও ইচ্ছা করলে সেই দরজা আমরা খুলতে পারি। আর তাহলেই মালামাল হয়ে যাব আমরা। অফুরন্ত ক্ষমতা আর ধনসম্পদ। ভাবো লুইসিয়ানো ভাবো। “
 
 
লুইসিয়ানো আর দ্বিতীয়বার ভাবেনি। ব্ল্যাকম্যাজিকের অধ্যয়নে মেতে ওঠে সে। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নরকের দরজা খোলার দিন। সেই আতঙ্কময় বিভৎস দিনটা কে মনে রাখার কোনও ইচ্ছাই ফাদার রডরিগের নেই। সেদিনের লুইসিয়ানোর সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত আজও করে চলেছে সে।
 
শয়তানটা তার আগুনের মতো টকটকে লাল দেহখানা নিয়ে এগিয়ে এল। মাথায় ছাগলের মতো বাঁকানো দুখানা শিং আর পেছনে বেশ বড়সড় একটা সিপসিপে লেজ। একটা হিংস্র কূটিল চাহনি নিয়ে তাকিয়ে আছে ফাদার রডরিগের দিকে। ফাদার রডরিগ তার বুকে ঝোলানো ক্রশখানা হাতে ধরে শয়তানের দিকে লক্ষ্য করে বলল, “ঈশ্বরের দিব্যি, পবিত্র আত্মার দিব্যি, আর এগোবে না। ঈশ্বর তোমাকে যে নরকের আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন সেই নরকের আগুনেই পুনরায় পৌঁছে দেন। আমেন।”
 
শয়তানটা আরো এগিয়ে এসে বলল, “কথার উল্লঙ্ঘন করেছ তুমি। তোমাকে শাস্তি পেতেই হবে। চুক্তির উল্লঙ্ঘন করেছ তুমি। এক্ষুনি চল আমার সঙ্গে। “
ফাদার শান্তস্বরে বললেন,” আমি আমার আত্মাকে ঈশ্বরের চরণে সমর্পন করেছি। I am a sheep of The Shepherd. “
শয়তান তার শান্ত অথচ রক্তজলকরা গলায় বলল, “ভুলে গেলে সেই রাতের কথা ? ”  ফাদারের মানসপটে ভেসে এল  বহুবছর আগের সেই রাতের কথা। ফাদার রোজারিও আর সদ্য যুবক লুইসিয়ানো। ভাঙ্গা চার্চের একটা গুপ্তকক্ষে চলেছে নরকের দরজা খোলার প্রস্তুতি।
 
 
মেঝের উপর মানুষের রক্ত দিয়ে একটা পেন্টাগন এঁকে তার সন্ধিবিন্দুগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে নরকরোটি। প্রতিটি করোটির উপর অনির্বাণ শিখায় জ্বলছে এক একটা মোমবাতি।  ফাদার রোজারিও কি যেন দুর্বোধ্য ভাষায় আউড়ে চলেছেন একের পর এক মন্ত্র।
হঠাৎ করে গুপ্তকক্ষের দেওয়ালে একটা যেন একটা আগুনের কুণ্ড জ্বলে উঠল। তারপর সেই অগ্নিকুণ্ডের ভেতরের দৃশ্যটা স্পষ্ট হয়ে উঠল। যেন যোজন বিস্তৃত একটা অগ্নিময় গুহাপথ। সেই গুহাপথ বেয়ে বেরিয়ে আসতে চলেছে বিভৎসদর্শন সব জীবেরা। এক একটা নরকের দূত, – মূর্তিমান শয়তান। ফাদার রোজারিও কেঁপে উঠলেন । তার সারা শরীরে এক অজানা ভয় খেলে গেল।
 
 
মন্ত্র বন্ধ করে মেঝের উপর উল্টে পড়লেন ফাদার। ভয়ে কেঁপে উঠল লুইসিয়ানো। তার সামনেই ফাদার রোজারিওর দেহটা কচমচ করে চিবিয়ে চিবিয়ে খেতে লাগলো নরক হতে উঠে আসা শয়তানেরা। কি বিভৎস সেই দৃশ্য ! লুইসিয়ানোর চেতনা জবাব দিতেই বসেছিল, কিন্তু লুইসিয়ানো নিজেকে অনেক কষ্টে সামলে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। জ্ঞান হারালে চলবে না। একটু অসাবধানতা মানেই মৃত্যু।
 
 
লুইসিয়ানোর সামনে এখন একটা রক্তমাখা হাড়ের খাঁচা। আর তাকে ঘিরে নাচানাচি করছে কতগুলো উন্মত জীব। লাল বর্ণের দেহ তাদের। মাথায় ছাগলের মতো একজোড়া বাঁকা শিং আর একটা সিপসিপে লম্বা লেজ। শয়তানগুলো এবার ফাদার রোজারিওকে ছেড়ে এগিয়ে এল লুইসিয়ানোর দিকে। লুইসিয়ানোর বুকটা আতঙ্কে কেঁপে উঠল।
 
 
সে ঈশ্বরকে ডাকতে থাকলো। মৃত্যু তার নিশ্চিত। কিন্তু এই শয়তানগুলোর হাতে কখনোই নিজেকে সঁপে দেবে না লুইসিয়ানো। সে আর কিছু চিন্তাভাবনা না করে দৌড়াতে শুরু করে। প্রাণপণ দৌড়, নিজেকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা। দৌড়তে দৌড়তে সে বেশ অনুভব করতে পারছিল যে তার পেছন পেছন যে জীবগুলো দৌড়ে আসছে তারা এ জগতের নয়। একটু শৈথিল্য দেখালেই ফাদার রোজারিওর মত পরিণতি হবে তার। 
 
একটা সময় আর পারলো না লুইসিয়ানো মুখ থুবড়ে পড়ে গেল মাটির উপর। কিন্তু ততক্ষণে সূর্য্যের আলো এসে পড়েছে ধরনীর উপর। প্রভাতের প্রথম কিরণ। আর তার সাথে সাথেই অদৃশ্য হয়ে গেছে নরকের সেই জীবগুলো। কিন্তু একেবারে ছেড়ে দেয়নি তাকে, রাতের আঁধার নামলেই বেরিয়ে আসে তারা।
 
এমিলিয়াকে অনেকভাবে নিজের কাছ হতে দূরে রাখতে চেয়েছিল লুইসিয়ানো, কিন্তু পারেনি। অত্যধিক কৌতুহল এমিলিয়ার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। এমিলিয়াকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়েছিল ওরা। উফ্ ! কি বিভৎসতা ! আর সেদিন হতেই একটা অঘোষিত যুদ্ধে নেমে পড়েছিল লুইসিয়ানো।
 
 
এরপর শান্তির খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছে সে। অবশেষে ফাদার এডগারের সংস্পর্শে আসে লুইসিয়ানো। প্রিস্টের জীবন বেছে নেয়। নতুন নাম হয় ফাদার দিয়াগো রডরিগ ।
 
আজ আবার একবার সন্মুখসমরে নেমেছেন ফাদার রডরিগ। তিনি শয়তানের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন প্রভুর বাণী। শয়তান এগিয়ে আসতে লাগলো অবলীলায়। ফাদার রডরিগ বুঝলেন তার মৃত্যু আসন্ন। তিনি হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন। দু’চোখে জলে ভেসে যেতে লাগল। কাতরস্বরে বললেন, “এলি এলি লামা সবক্তানি। হে ঈশ্বর তুমি কি আমায় পরিত্যাগ করলে ? ” 
 
ঠিক তখনই পিছিয়ে গেল শয়তান। ফাদার চোখ খুলে দেখলেন একটা দশ বারো বছরের ছেলে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। তার কপাল বেয়ে রক্ত ঝরছে। আর সেই শয়তানের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে একটা মেষশিশু। ফাদার ছেলেটাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,” কে তোকে এমন করে মেরেছে বাছা ! “
ছেলেটি ভুবনভোলানো হেঁসে বলল, “যাদের আমি ভালোবাসি।”
 
 
 
                                                  _সমাপ্ত _

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *