শিশু সাহিত্য // রণেশ রায়

https://www.sahityakaal.com
শিশু সাহিত্য। শিশুদের জন্য কয়েকটা রচনা। মুশকিল হল আমার যে অসংখ্য প্রবন্ধ লেখা আছে তার একটা রাজনৈতিক পশ্চাদপদ আছে যেটা আপনাদের বইয়ের সব শর্ত মেনে লেখা নয়। সেগুলোকে বাদ দিতে হলে আমার ভান্ডার সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়। কবিতায় সে ভান্ডার এখনো পর্যাপ্ত। তা নইলে আমি প্রবন্ধ জগতের লোক। যায় হোক পাঠালাম। এরপর গল্প পাঠাব। তবে কবিতা এখন একটু বন্ধ থাকলেও সেটা নিয়ে আমি মগ্ন আছি। আর আপনাদের উৎসাহেই অনুবাদ সাহিত্যে আসা আর সেখানে প্রচুর পাঠক। স্বরচিত কবিটাতে আপনাদের সাহায্য প্রচুর পাঠক হয়েছে ।

শিশু সাহিত্য

কথায় কথায় রচনা                             

নদী

আমাদের চারদিকে আমরা যেমন পশুপাখি গাছ পাহাড় দেখি তেমনি খাল বিল পুকুর নদী দেখি । এরা  আমাদের চারপাশ যাকে আমরা প্রকৃতি বলি। খাল বিল পুকুরের মত নদীও জলাশয়। প্রাকৃতিক জলাশয়। খুব বড় জলাশয় যে বয়ে চলে। খাল বিল পুকুরের  মত একজায়গায় বসে থাকে না। নদীর নিচু একদিক খোলা থাকে যাতে সে বয়ে চলতে পারে। তাকে চারদিক দিয়ে আটকে রাখা যায় না। আটকে রাখলে সে আর নদী থাকে না। বাঁধ হয়ে যায়।

উঁচু জায়গা থেকে নেমে এসে নদী সমতল ধরে বয়ে চলে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে সমুদ্রমুখে। পাহাড়ের বরফ গলে  জলপ্রপাত আর ঝর্ণা হয়ে জল নেমে এসে নিচু জায়গায় নদী হয়ে বয়ে চলে। বৃষ্টি এর সঙ্গে যোগ দেয়। তার গতি সবসময় নিচের দিকে। অনেক কটা নদী বয়ে এসে যে জায়গায় মেলে সেই জায়গাকে  বলে মোহনা।। মোহনায় বন্ধু নদীরা হাত ধরাধরি করে সমুদ্রে মেলে। জলপ্রপাত ঝর্ণা বৃষ্টি যেমন নদীকে জলের যোগান দেয় তেমনি নদীরা সবাই মিলে সমুদ্রকে জলের যোগান দেয়। আমাদের দেশে ছোট বড় অসংখ্য নদী আছে। গঙ্গা ব্রহ্মপুত্র বিপাশা কৃষ্ণা কাবেরী গোদাবরী হল কয়েকটা প্রধান নদী। এদের থেকে বেরিয়েছে ছোট ছোট শাখা নদী। যেমন হুগলি দামোদর স্বরস্বতী প্রভৃতি হল বাংলার শাখানদী।

নদী মানুষের বিশেষ বন্ধু। সে জলের যোগান দেয়। আমাদের নানা কাজে সেই জল লাগে। নদীর জল বিশুদ্ধ করে আমরা খাই । চাষের কাজে নদীর জল দরকার হয়। নদী মাটিকে উর্বর রাখতে সাহায্য করে। নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।  প্রকৃতিকে ঠান্ডা রাখে নদী। তবে কখনও কখনও নদী মানুষের বিপদ ডেকে আনে। খুব বেশি বৃষ্টি হলে নদীর জল পাড় ভাসিয়ে নেয়। শুধু ভাসায় না, কখনও বা বন্যা ডেকে আনে। বন্যায় বাড়ি ঘর ভেসে যায়। মানুষ ঘরহারা হয়ে পড়ে।

খেলাধুলো

আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে খেয়ে দেয়ে পড়তে বসি। তারপর স্কুল যাই। বিকেলে এসে মাঠে গিয়ে খেলি। খেলতেই হয়। কারন খেলা শরীর ভালো রাখে। মন ভালো থাকে। খেলায় আমরা মজা পাই। খেলার মাঠে সবাই আমাদের বন্ধু।

খেলা খেলোয়াড়ী মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করে। খেলোয়াড়ী মনোভাব হলো হার জিতকে মেনে নিতে শেখা। জিতলে অহংকারী না হয়ে ওঠা আর হারলে হতাশ না হওয়া।

একদিন না খেললে খেতে পড়তেও ইচ্ছে করে না। বিকেল বেলায় আমরা খেলি কারন বিকেলে গরম থাকে না।  ঠান্ডার মধ্যে খেলা শরীরের জন্য ভালো। তাই বিকেলটাই খেলার সময়। আমরা বলি পড়ার সময় পড়া খেলার সময় খেলা। খেলা শরীর মন ভালো রাখে বলে খেলতেই হয়। না খেললে শরীর তৈরী হয় না। আর খোলা মাঠে ধূলো লাগে খেলার সময়। তাই খেলাকে খেলাধূলো বলে। খেলে এসে ভালো করে শরীর ধুয়ে নিলে ধূলো কাদায় ক্ষতি হয় না। ধূলো লাগার ভয়ে খেলা যেন বাদ না যায়। বাদ গেলে শরীরে রোগ ধরে, মনে রোগ ধরে।

নানা রকম খেলা আছে। ফুটবল ক্রিকেটের মত খেলা খোলা আকাশের নিচে মাঠে খেলতে হয় বলে একে ঘরের বাইরের খেলা বা আউটডোর খেলা বলা হয়।  আর টেবিলটেনিস ব্যাটবিনটন ছাদের নিচে ঘেরা জায়গায় খেলা হয় বলে এদের ঘরের ভেতরের বা ইনডোর খেলা বলা হয়। সাঁতার ব্যায়াম বা সাইকেল চালানোও একধরনের খেলা। খেলাধুলোর সঙ্গে ভালো পুষ্টিকর খাবার খেতে হয় কারন খেললে পরিশ্রম হয়। তা না করলে খেলার উপকার পাওয়া যায় না।

খেলা মজাদার বলে আমরা খেলতে বেশি ভালোবাসি। নিয়ম করে সময় ধরে খেলতে হয়। হিসেব করে না খেললে পরিশ্রম বেশি হয়। সেটা সহ্য না হলে শরীর খারাপ হতে পারে। আর বেশি খেললে অন্য কাজ করা যায় না। তাই সময়কে ভাগ করে নিয়মিত মাঠে নেমে খেলতে হয়। জীবনে অন্য কাজের মত খেলাও দরকারি। আজকাল শিশুদের মাঠে গিয়ে ঘাম ঝরিয়ে খেলতে যেতে দেখা যায় কম। তারা বিকেলেও কম্পিউটারে খেলে। এটা শরীরের পক্ষে খুব খারাপ।

মিনি বেড়াল

মিনি আমাদের সঙ্গে বাড়িতে থাকে। একই সঙ্গে থাকা খাওয়া ঘুমোন খেলা। তবে পড়া নয়। আমরা যখন পড়তে বসি আমাদের মিনি বেড়াল  তখন মায়ের কোলে বসে আদর খায়। মায়ের পোষ মানা তো ! মা ছাড়া কাউকে মানে না। আদর দিয়ে মা ওকে মাথায় তুলেছে। ও হোল দুগ্ধ পোষ্য। দুবেলা দুধ ছাড়া তার চলে না। আমাদের মত ওর মুখ আছে, চোখ আছে, মাথা আছে, চার চারটে পা আছে। তবে হাত নেই। লেজ আছে। সামনের পাদুটো হাতের কাজ করে। বুদ্ধি আছে তবে সেটা বদবুদ্ধি। সেই বুদ্ধিতে ওর শুধু দুষ্টুমী। কেউ বকলে মায়ের কাছে গিয়ে মিঁউ মিঁউ করে কান্না। নালিশ করা।

দুগ্ধপোষ্য হলেও মাছ আর ইঁদূরের মাংসে তার বড় লোভ। সব সময় তাকে তাকে থাকে।  কার পাতের মাছ নিয়ে পালাবে। ইঁদূর দেখলেই হ`ল। দৌড়ে গিয়ে ধরবে,

পেটে পুরবে। বকলে এই বুঝি খিমছে দেয়। একবার খিমছে দিলে সর্বনাশ ! ইনজেকসন না নিলে মরন। তাই আমরা ওকে খেপাই না। তবে মা বকলে ও খেপে না শুধু কাঁদে যতক্ষণ না মা কোলে নেয়। মিনির শরীরটা নরম তুল তুলে। শরীরে হার নেই। খুব উঁচু থেকে পড়ে গেলেও ওর কিছু হয় না। হাত পা ভাঙ্গে না।

ছুটে নিমেষের  মধ্যে কোথায় পালিয়ে যায়।

গাছ বন্ধু  

জল,জঙ্গল,জমি,নদী,সমুদ্র,আকাশ,বাতাস নিয়ে প্রকৃতি। অনেক রকম গাছ নিয়ে জঙ্গল তৈরী হয়। গাছ প্রকৃতির পরিবারের একজন। মানুষের পরম বন্ধু। গাছে ফল ফলে ফুল ফলে সবজি হয়। ফুল বাতাসে সুগন্ধ ছড়ায়। প্রকৃতির শোভা বাড়ায়। ফল সবজি মানুষের খাবার যোগান দেয়। খাবার খেয়ে মানুষ বাঁচে। গাছের কাঠে আসবাব তৈরী হয়। কাঠ জ্বালানির কাজ করে। গাছ বাতাসে অক্সিজেন ছাড়ে।

মানুষ বাতাস থেকে সেই অক্সিজেন নিয়ে বাঁচে। গাছ মাটিকে আঁটোসাঁটো করে ধরে রাখে। নদীর পার শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে গাছের জন্য। নদী উপচে পরে বন্যায় ভাসিয়ে দিতে পারে না।  গাছ প্রকৃতিকে ঠান্ডা রাখে। গাছ না থাকলে সব শুকনো মরুভূমি হয়ে যেতো। সব দিক দিয়েই গাছ মানুষের বন্ধু। মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।

মানুষের দায়িত্ব গাছ সংরক্ষণ, জঙ্গল সংরক্ষণ করা। খাদ্য দেয়  বলে, গাছ থেকে জ্বালানি পাই বলে, গাছ কেটে জঙ্গল সাফ করে চাষ হয় বলে বা জঙ্গল পরিষ্কার করে বাড়ি  ঘর হয় বলে বিনা বিচারে গাছ কাটা হয় জঙ্গল সাফ হয়ে যায়। এটা হ`ল নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মারা। নিজের সর্বনাশ নিজে ডেকে আনা। গাছ কাটার দরকার হয় আমাদের প্রয়োজনে। কিন্তু একটা গাছ কাটলে একটা গাছ রোপন করতে হয়। আর নির্বিচারে জঙ্গল সাফ করলে চলে না।

সেটা করলে প্রকৃতি বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। সে পাল্টা আঘাত হানে। বন্যা ভূমিকম্প সভ্যতাকে ধ্বংস করে। মানুষের খাদ্যের অভাব ঘটে। বাতাসে অক্সিজেন কমে যায়। তাই আমাদের স্বার্থেই গাছ বন্ধুকে রক্ষা করতে হয়। গাছ যেমন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে তেমনি মানুষের দায়িত্ব তাকে রক্ষা করা। মনে রাখতে হয় একটা গাছ একটা জীবন।

 বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের মোট অঞ্চলের তেত্রিশ শতাংশের বেশি অঞ্চলে অসংখ্য গাছ নিয়ে জঙ্গল থাকা উচিত। কিন্তু জঙ্গল লুঠ হওয়ায় আমাদের দেশে সেটা প্রায় কুড়ি শতাংশে নেমে এসেছে। এটা বিপদ ডেকে আনছে। এর থেকে বাঁচতে গেলে আমাদের প্রত্যেককে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়। জঙ্গল কেটে প্রকৃতি ধ্বংস হওয়ায় আজ পৃথিবী গরম হয়ে উঠেছে। তার অস্তিত্ব বিপদের মুখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *