স্মৃতির ভেতর বাহির // যাকারিয়া আহমদ

.
স্মৃতির ভেতর বাহির // যাকারিয়া আহমদ

.

লাবিবের সঙ্গে আর দেখা হয় না। আর কখনও দেখা হবে কী না জানি না। হতে পারে কখনও কোনো পথের মোড়ে বা যান্ত্রিকে। তখন আমি বা লাবিব একে অপরকে চিনতে সময় লাগবে। লাবিবের তখন হয়তো সময় থাকবে না। আমারও এমন হতে পারে। কিন্তু আমি দাঁড়িয়ে রব পরিচয় করতে পারলে। দাঁড়িয়ে রব মানে ইচ্ছে হবে তার মুখের ছোটো ছোটো বাক্যের দু’টি বাক্য শোনবার জন্য।.

.

লাবিব আমার প্রিয় ছাত্রগুলোর মধ্যে পড়ে। আসলে আমার ছোট ছাত্রগুলোকে বেশ ভালো লাগে। এদের কথা শুনতে ইচ্ছে করে বারবার। এজন্য এদেরকে পড়াতে পড়াতে একযোগ পার করে দিলাম। তবু এদের সঙ্গে ধুলায় গড়াগড়ি করতে স্বর মিলিয়ে পড়ে পড়ে দিন পার করতে বেশ ভালো লাগে।.

.

লাবিব, জয়নাল, মুখতার কেউই  আসে না আর খুব ভোরে। কেউ চায় না রোজ রোজ দশ টাকা করে। রাগভাব দেখলে পুরাতন ফলকের পেছনে দাঁড়িয়ে চাওয়াচাওয়ি কেউ করে না। এরা নেই বলে চৌধুরী বাড়ির আম গাছেরর ডাল ভাঙার বিচার নিয়ে কেউ আসে না।

.

.

জেসির হাতের চুড়ি খুলে ফেলার অভিযোগে অভিযুক্ত হয় না কেউই। এরা যেমন দুষ্ট ছিল তেমন মেধাবীও। মেধাবী শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন কম। প্রায় শূন্যের ঘরে।

একযুগেও জয়নালের মেধার মতো একটা মেধা পেলাম না। ক্লাসে উপস্থিত হলে যেমন পাঠ মুখস্থ শোনাতে পারতো, না হলেও পরেরদিন শিক্ষকে বোঝ দিতে পারতো। অনুপস্থিতির কারণে তার অনেক শিক্ষক মন্ধ ভাবতেন এবং তিরস্কার করতেন।

.

.

কিন্তু আমি মন্ধ যেমন বলতাম না তিরস্কারও করতাম না। একটা শিক্ষার্থীকে তিরস্কার জ্ঞানার্জন থেকে কতটা দূরে নিয়ে যায় তা বলে বোঝানো মুশকিল। যারা তিরস্কারের মুখোমুখি হয়েছেন তারা জানেন তিরস্কার কী। এজন্য আমি তিরস্কার করি না। শিক্ষার্থীদের অনেকভাবে বোঝাবার চেষ্টা করি। এই বোঝাতে গিয়ে অনেক মূর্খের জবানদরাজি আমাকেও শোনতে হয়।

.

.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *