বৃন্দাবনের পথে পথে – পর্ব – ৪ – বিশ্বনাথ পাল

sahityalok.com
সকালে উঠে স্নান টান সেরে আমি আর উমাদা লোকজন কে জিঞ্জাসা করে পৌঁছলাম বাঁকেবিহারীর মন্দিরে। এই মন্দিরের রাধা – কৃষ্ণের মূর্তি খুবই জাগ্রত। ভক্তের উপর কৃপাদৃষ্টি হলে ভক্তের জীবন সার্থক হয়ে ওঠে। চতুবর্গলাভ হয়। তাই কিছুক্ষণ অন্তর মন্দিরের পর্দা টেনে দেওয়া হয় একে ঝাঁকি দর্শন বলা  হয়। সকাল সাড়ে সাতটায় মন্দিরের দ্বার খোলা হবে তাঁরআগেই মন্দির চত্বর যেন মেলা তলা। নামীদামী ভক্তরা নিজ নিজ পাণ্ডা ধরে পৌঁছে গেছেন। 
মূল মন্দিরের বিগ্রহের অনেক কাছাকাছি। মন্দিরের মূলদরজা খোলা মাত্রই বিপুল জয়ধ্বনির মধ্যে ভক্তরা আনন্দ প্রকাশ করলেন। আগের আগের  ভক্তদের পূজা দেওয়া হলে আমরা গুটি গুটি পায়ে মন্দিরের কাছে এগিয়ে গেলাম।
 ধৈর্য্য সহকারে কাছাকাছি গিয়ে মূল পূজারীর হাতে ‘চৈতন্য চিন্তন’ দিলাম বাঁকে বিহারীর পায়ে অর্পণ করার। প্রচ্ছদপটে অনিন্দ্যসুন্দর মহাপ্রভুর মুখ দেখে পরিতৃপ্ত বালক পূজারী বাঁকেবিহারীর একটি মালা আমার গলে পরিয়ে দিলেন। মালা পরে আনন্দে আত্মহারা আমার দুচোখ বেয়ে আনন্দাশ্রু গিয়ে পড়ল। 
ততক্ষণে  আমাদের পাণ্ডাসহ বাকি লোকজন চলে এসেছে। এবার আমরা বাঁকে বিহারীর উদ্দেশ্যে প্রণাম সেরে  মন্দিরের সামনে তুলসী মঞ্চ প্রদক্ষিণ করলাম হরিনাম করতে করতে। 
 
 
বৃন্দাবনের আর একটা বিশেষত্ব এই এখানকার  শ্রীমতি রাধারাণী ও শ্রীকৃষ্ণ  চান না ভক্তরা তাঁকে নকলচোখে দেখুক। পাণ্ডারা এব্যাপারে আগেভাগে সতর্ক করা সত্বেও যারাই চশমা পরেছে তাদের চশমা মুহূর্তে লালমুখো বাঁদরের  হাতে চলে যাচ্ছে তার পর সেই চশমা মুখে নিয়ে সেই বাঁদর পাওনা জন্যে তক্কেতক্কে থাকে। দামী বিস্কুটের প্যাকেট, ম্যাঙ্গোফ্রুটি নিয়ে সাধলে তবেই ফেরত পাওয়া যায়। তবে ঐ  চশমা যদি অপর কোন বাঁদরের খপ্পরে পরে তবে ডাবল  জরিমানা সেই সঙ্গে যে ঐ চশমা উদ্ধারকারী পঞ্চাশ টাকা লাগবে। 
 
 
রাধাগোবিন্দের একটি মন্দিরে এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর আমরা গেলাম ইমলি তলায় যেখানে মহাপ্রভু বসে ছিলেন। হিন্দী ভাষায় ইমলি মানে তেঁতুল। এখানকার তেঁতুল কোন দিন পাকে না। এখান কার স্হান মাহাত্ম্য। আমরা কাজেপিঠে আর একটি মন্দিরে গেলাম। সেখানকার পূজারীর অনুমতি ক্রমে আমরা মন্দিরের খোল কত্তাল আর মাইক নিয়ে নামগান করলাম মহানন্দে। 
হরিনাম করতে করতে রাধা নামে জয়ধ্বনি দিতে দিতে আমরা এগিয়ে চলেছি। মনসা মন্দিরে গিয়ে আমরা দল বেঁধে পূজা দিলাম। 

 
 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *