নারীর বড়ো লাঞ্ছনা – নাসিরা খাতুন

নারী বাচ্ছা জন্ম দিতে পারলেই যে সেটা সুখবর হবে,পরিবারের সবার মুখে হাঁসি ফুটবে এমন কিন্তু নয়।সুখবর বিচার হয় ছেলে হয়েছে নাকি মেয়ে কিন্তু ছেলে বা মেয়ে হওয়াটা নির্ভর করে একজন পুরুষের উপর সেটা কেউ বুঝতে চায়না ।সব দোষ শুধু যে বাচ্ছা প্রসব করে তার কারন সে একজন নারী এটাই তার দুর্বলতা।

কোনো পরিবারে পুত্র সন্তান জন্মালে পাড়া শুদ্ধু মিষ্টি বাঁটতে দেখতে পাবে।আর যার পরিবারে প্রথম কন্যা সন্তান জন্মেছে খোঁজ নিয়ে দেখো মুখ গোমরা করে বসে আছে,হয়তোবা গাল দিয়ে বলছে হতভাগি তুই একটা অলক্ষী,এতদিন বসে বসে তুই আমাদের বাড়ির অন্ন ধ্বংস করেছিস আবার এখন মেয়ে জন্ম দিলি।

পাশের বাড়ির ভোলাকে দেখ ছেলে হওয়ার আনন্দে গোটা পাড়া নাচাচ্ছে,আর আমি মেয়ে হওয়ার দুঃখে মুখ লোকাচ্ছি।তুই আমার সব স্বপ্নে জল ঢেলে দিলি,এর থেকে তো তুই মরে যেতে পারতিস।একবারও কি ভেবে দেখেছেন যে নারী কোনোদিনও মা হতে পারবেনা,যে পুরুষ কখনো বাবা ডাকটা শুনতে পাবেনা তার কষ্ট কতটা,,,।আপনি সত্যিই অনেক ভাগ্যবান কারন আপনি বাবা হতে পেরেছেন,দাদু-দীদা হতে পেরেছেন।

প্রথম সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে কোনোরকমে মানিয়ে নিলেও দ্বিতীয় সন্তান কিন্তু মনের মতো চাই।যার প্রথম ছেলে হয়েছে তার মেয়ে আর যার প্রথম সন্তান মেয়ে হয়েছে তাকেতো যেভাবেই হোক পুত্র সন্তান জন্ম দিতেই হবে নইলে খবর আছে।প্রথম কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর কোনো নারী যদি দ্বিতীয়বারও কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় তাহলে সেই নারীকে অনেক সময় শুধু গালাগালি নয়,মার ও খেতে হয় দিনের পর দিন।শত কষ্ট যন্ত্রনা সহ্য করেও নারীকে সমাজে বেঁচে থাকতে হয় তার সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে,কারন সে একজন মা এটাই এখন তার জীবনের সবথেকে বড়ো পরিচয়।
তবে সবটাই ব্যক্তি সাপেক্ষ,এখনও সমাজে সঠিক মানসিকতার মানুষ বেঁচে আছে আর আগামি দিনেও থাকবে।যারা নারীকে কষ্ট দিতে চায়না কারন তারাও যে একজন নারীর গর্ভের সন্তান।ছেলেরা যদি গর্ভধারন করতে পারতো তাহলে সমাজে নারীর জন্য যেটেকু সম্মান আর শ্রদ্ধা বেঁচে আছে সেটুকুও থাকতোনা।
আচ্ছা ভাবুনতো যে নারী কোনো দিনও সন্তান প্রসব করতে পারবেনা,সন্তান প্রসবের যন্ত্রনা যে কতটা তা কোনোদিনই বুঝতে পারবেনা,একবার তার কষ্টের কথাটা ভাবুন।প্রতিটা নারীই মা হতে চায় কিন্তু কোনোকারনে যদি সে মা হতে না পারে তাহলে কী সেটা তার দোষ?? কখনই নয়,সবই প্রকৃতির নিয়মে চলে আমার আপনার ক্ষমতা যে সেখানে বরই তুচ্ছ। আসুন নারীকে সম্মান আর শ্রদ্ধা জানাই কোনো একটা দিনের জন্য নয়,প্রতিটা মুহুর্তই হোক “নারীদিবস”।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *