বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১ – সিদ্ধার্থ সিংহ

বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৮ – সিদ্ধার্থ সিংহ  – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৯ – সিদ্ধার্থ সিংহ –  ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ১০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক  করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১১ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১২ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৪ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৫ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৬ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৭ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৮ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৯ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২১ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২২ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন

sahityalok.com
বার্মুদা রহস্য   —  পর্ব  – ১ –  সিদ্ধার্থ সিংহ

কে? ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল কেউ না। কয়েক মুহূর্তমাত্র। তার পর জাহাজের কেবিনের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই চমকে উঠল মাস্টার সায়ন চৌধুরি। কী হল? এই তো আকাশ পরিষ্কার ছিল! হঠাৎ এত কুয়াশা এল কোথা থেকে! মনে হচ্ছে ধোঁয়ায় চারদিক ঢেকে গেছে! আকাশটার রং মাছের পিত্তির রঙের মতো গাঢ়! সমুদ্রটাকেও কেমন যেন অস্বাভাবিক লাগছে !

ধুপধাপ পায়ের শব্দে বুঝতে পারল, কারা যেন ছোটাছুটি করছেন। কী সব বলছেন। কী বলছেন ওঁরা! ঘাড় ঘোরাতেই কানে এল, কে যেন যেতে যেতেই কাকে বলছেন, জাহাজের সব যন্ত্র বিকল হয়ে গেছে। কেউ বলছেন, কম্পাসের কাঁটাগুলো আশ্চর্যজনক ভাবে বনবন করে ঘুরছে। আবার কেউ বলছেন, জলে নয়, কোনও এক অদৃশ্য টানে আমরা যেন ক্রমশ আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছি। মিলিয়ে যাচ্ছি মহাশূন্যে। আরও একজন বললেন, অন্য কোনও গ্রহের দিকে আমাদের জাহাজ যেন উল্কার বেগে ছুটে চলেছে।
সায়ন স্তম্ভিত। তা হলে কি তাদের জাহাজ বার্মুদা ট্র্যাঙ্গেলের মধ্যে পড়ে গেছে! এ বার কী হবে!
সে যাচ্ছে মেক্সিকো। কয়েক বছর আগে কলকাতা বইমেলার মূল থিম ছিল মেক্সিকো। সে যে দিন গিয়েছিল সে দিন ওই স্টলে মাক্সিকান নাচ হচ্ছিল। ওই দেশ থেকে আসা ছেলেমেয়েরাই নাচছিল। আর মাঝে মাঝেই নাচতে নাচতে এসে গোল করে ভিড় জমিয়ে তাঁদের নাচ দেখতে থাকা এখানকার দর্শকদের মধ্যে থেকে দু-একজনকে টেনে নিচ্ছিল, তাদের সঙ্গে নাচ করার জন্য। নাচ মানে রবীন্দ্রনৃত্য, ওড়িশি, সাম্বা, ডিসকো বা কুচিপুরি নয়, ওদের নাচ পুরোটাই তাল নির্ভর এবং তা কেবলমাত্র পায়ের কারিকুরির ওপরেই নির্ভর করে।
যাকেই ওরা টেনে নিচ্ছিল, সে ছোট হোক বা বড় হোক, নাচ সম্পর্কে বিন্দুবিসর্গ কোনও ধারণা না থাক, ওদের মিউজিকটাই এমন, একবার ফ্লোরের মাঝখানটায় চলে গেলেই তারা জীবনে কোনও দিন না-নেচে থাকলেও, হঠাৎ করে কেমন যেন নৃত্য পটীয়সী হয়ে উঠছিল। সায়ন বুঝতে পারেনি।
ওর খুব ইচ্ছে করছিল ওদের সঙ্গে নাচতে। ওদের পায়ে পা মেলাতে। সে জন্য সবাইকে ঠেলেঠুলে, ধাক্কা মেরে সরিয়ে একদম সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ওরা কেউ নাচতে নাচতে এসে তার হাত ধরে ফ্লোরের মাঝখানে নিয়ে না-গেলে ও যায় কী করে! কেউ তো নিজে থেকে যাচ্ছে না! ওরা এ দিক ও দিক সে দিক থেকে ছেলেমেয়েদের নিচ্ছিল, ও তাই একবার এ দিক আর একবার ও দিকে গিয়ে দাঁড়াচ্ছিল। যদি তার ভাগে শিকে ছেঁড়ে। কিন্তু না, কেউ ওকে নাচার জন্য ডাকেনি।
ফেরার সময় বাবার কাছে আফসোস করতেই ওর বাবা বলেছিলেন, তোকে মেক্সিকোর স্টলে নাচতে নেয়নি তো কী হয়েছে? তুই একেবারে খোদ মেক্সিকো দেশে গিয়ে নাচবি।
হাঁটতে হাঁটতে বাবার মুখের দিকে হা করে তাকিয়েছিল সায়ন। বুঝতে পেরে ওর বাবা বলেছিলেন, তোর মেজ মামা এখন মেক্সিকোয় পোস্টিং। ফ্লোরিডা, পোয়ের্তোরিকা আর মিয়ামির মধ্যে যে জাহাজগুলো চলাচল করে, তার সর্বময়কর্তা। ওদের অফিসে তো অসুস্থতা ছাড়া টানা ছুটি নেওয়ার কোনও প্রভিশন নেই। তাই প্রত্যেক কর্মচারীকে প্রতি বছর, তাদের ফ্যামিলি পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তেই থাকুক না কেন, তিন জনের যাতায়াতের ফ্রি-পাস দেয় ওদের কোম্পানি।
যাতে দেশ থেকে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে এসে তারা তাদের সঙ্গে কিছু দিন একসঙ্গে কাটাতে পারে। কিন্তু তোর মামার তো আমরা ছাড়া নিজের বলতে আর কেউই নেই। বিয়ে-থাও করল না। প্রতিবারই যাওয়ার জন্য কত করে বলে, কোনও বারই হয় না। তোর মা বলছিল, এ বার যাবে। তবে তোর মামার কথা মতো ফ্লোরিডা পর্যন্ত প্লেনে গিয়ে বাকিটা জাহাজে করে নয়, আমরা প্লেনে করেই সরাসরি মেক্সিকোয় গিয়ে নামব। তোর মায়ের তো আবার জলে ভয়।
সায়ন এর আগে ওর বাবা-মায়ের সঙ্গে বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনে গেছে। সানফ্রানসিস্কোয়। টরেন্টোয়। না, প্লেনে ওর মায়ের কোনও সমস্যা হয় না। এমনকী, গত বার সল্টলেকের করুণাময়ী থেকে বাসে করে বাংলাদেশে গিয়েছিল ওরা। ঢাকায়। একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস উপলক্ষে জাতীয় কবিতা উৎসবে। সেই সকাল থেকে একটানা সন্ধে পর্যন্ত বাসে। তাতেও তার মায়ের কোনও অসুবিধে হয়নি। এতটুকুও গা গোলায়নি।
কিন্তু সে বার! বাবা বলেছিলেন, আন্দামানে যখন বেড়াতে যাচ্ছি, সবাই যা করে, আমরাও তাই করব। এক পিট প্লেনে, এক পিট জাহাজে। মা রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু খিদিরপুর থেকে হর্ষবর্ধন জাহাজে করে পোর্টব্লেয়ারে যেতে গিয়ে ওর মায়ের যা অবস্থা হয়েছিল, তাতে ওদের আন্দামান ট্রিপটাই একেবারে মাঠে মারা গিয়েছিল।
সায়নের অবশ্য প্লেনের চেয়ে জাহাজই বেশি ভাল লাগে। আর এখানে যখন প্লেনে করে গিয়ে কিছুটা জাহাজে চাড়ার উপায় আছে, তাও আবার মামার দৌলতে বিনে পয়সায়, তখন ওর মা কিনা বলছেন, জাহাজে-টাহাজে নয়, পুরোটাই প্লেনে করে যাবেন! কোনও মানে হয়! সত্যি, মাকে নিয়ে না মহামুশকিল! ধুৎ, ভাল লাগে এ সব?
কিছু দিন আগে ওর বাবা ওকে একটা ল্যাপটপ কিনে দিয়েছিলেন। বাবা-মা কাউকে না জানিয়ে ও ওর মেজ মামাকে ই-মেল করল— বাবা-মা যদি সরাসরি প্লেনে করে যেতে চায় তো যাক। আমি কিন্তু ফ্লোরিডা থেকে জাহাজে করেই যাব। তুমি তার একটা ব্যবস্থা করো।
তার পর কী হয়েছে ও জানে না। একদিন শুনল, ওর মেজ মামা যে এয়ারলাইন্সে করে ওদের যেতে বলেছেন, সেই বিমানটা নাকি কানেকটিং ফ্লাইট। বিভিন্ন জায়গায় ড্রপ করতে করতে যায়। মা-বাবারটা কাটা হয়েছে একদম মেক্সিকো পর্যন্ত। আর তার টিকিটটা ফ্লোরিডা অবধি। তার মেজ মামার এক ক্লাসমেট, যিনি এখন তার মামার সঙ্গে ওই একই অফিসে কাজ করেন, বর্তমানে ফ্লোরিডায় পোস্টিং, তিনি নাকি তাকে ওখান থেকে কালেক্ট করে পরের জাহাজেই মেক্সিকো রওনা হবেন।
ও অবাক। সে জাহাজে করে যেতে চেয়েছে দেখে মামা তার বাবা মা-কে এমনকী বোঝালেন যে, তারা ও রকম একটা অচেনা-অজানা জায়গায় তার ছেলেকে একা ছেড়ে দিতে রাজি হয়ে গেলেন! সত্যি, তার মামা না যে কোনও লোককে ঘোল খাইয়ে দিতে পারেন!
সব ঠিকঠাকই চলছিল। ওদের বিমান ফ্লোরিডায় ল্যান্ড করতেই ওকে রিসিভ করে নিয়েছিল মেজ মামার সেই বন্ধু। খুব যত্নআত্তি করেছিল। এটা ওটা খাইয়েছিল। নিজে ড্রাইভ করে জাহাজঘাঁটিতে নিয়ে গিয়েছিল। খুব লাক্সারি কেবিনের ব্যবস্থা করেছিল তার জন্য। কিন্তু জাহাজ ছাড়ার খানিক আগে থেকেই সেই ভদ্রলোক যে কোথায় উধাও হয়ে গেলেন, ও আর তার হদিশ পেল না। তাঁর খোঁজে ডেকে যায়, এই ক্রুকে জিজ্ঞেস করে, সেই নাবিককে জিজ্ঞেস করে, কিন্তু কোথাও কোনও সদুত্তর পায় না। 
সবাই একই কথা বলে, ওকে পাচ্ছ না তো কী হয়েছে? আমরা তো আছি। তোমার কী লাগবে বলো?
মানুষ কি শুধু দরকারেই মানুষকে খোঁজে? এমনি খুঁজতে পারে না, না? ঠিক আছে, তার কাউকে লাগবে না। তার সঙ্গে তার ল্যাপটপ আছে। তাতে লোড করা আছে হাজার একটা গেম। খেলতে খেলতে এ ক’টা দিন তার ঠিকই কেটে যাবে।

চলবে  ……

বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৮ – সিদ্ধার্থ সিংহ  – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ৯ – সিদ্ধার্থ সিংহ –  ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য – পর্ব – ১০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক  করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১১ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১২ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন

বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৪ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৫ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৬ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৭ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৮ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ১৯ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২০ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২১ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২২ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন
বার্মুদা রহস্য — পর্ব – ২৩ – সিদ্ধার্থ সিংহ – ক্লিক করুন


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *