একটি ছেঁড়া পাতার গল্প – ছন্নছাড়া।

শীতের শেষ। গাছ গুলো সব পাতাহীন।
কয়েকটি ডাল মাএ আছে। হঠাৎ একদিন তেমন একটা গাছে একটি পাতার জন্ম হল। পাতাটি হঠাৎ করে নিজেকে খুব ভাগ্যবান বলে মনে করতে লাগল যে গাছটিকে বাঁচতে সাহায্য করবে বলে।
   গাছটিও তাকে খুব আপন করে নিল। কারণ তখন সেই পাতাটিই ছিল তার একমাত্র খাদ্য তৈরির কারিগর। কিন্ত কিছুদিন যেতেই পাতাটি নিজের জায়গাটা বুঝতে পারল। গাছটি তাকে জানাল তার অতীতের কথা।
    প্রথম পাতার প্রতি তার ভালবাসার কথা।
প্রথম পাতাটিই  তার সবটুকু জুড়ে আছে।
তারপর হঠাৎ করেই একদিন নতুন পাতাটি বুঝতে পারল তার ভাবনা কত ভুল ছিল। সে শুধুই গাছটির খাদ্য উৎপাদক। আর কিছুই নয়।
কিন্তু তখন তার আর কিছুই করার নেই। তার যা কিছুই ছিল সবকিছু গাছটিকে দিয়ে ভালবেসে ফেলেছে।
       গাছটিও পাতাটির মনের অবস্থা  বুঝতে পেরেছে। তাই পাতাটির গুরুত্ব কমতে শুরু করেছে তার কাছে। কিন্তু পাতাটি ছিল খুব অবুঝ। বুঝতেই পারে নি গাছটিকে সে নিজের বলে ভাবলেও গাছটি কোনদিনই তা ভাবতো না।         তখন গাছটির অনেক পাতা হয়েছে তাই সেই পাতাটির গুরুত্ব ও কমেছে। তারপর বসন্তের শুরুতেই হঠাৎ একদিন ঝড় উঠল। আর কয়েকটি পাতার সাথে সেই পাতাটি গাছ থেকে ঝড়ে গেল।এখন পাতাটি গাছের তলায় পড়ে অবাক হয়ে দেখে তার ঝরে যাওয়াতে গাছটির কোনো কষ্ট নেই।
           অথচ এই গাছটিই একদিন তাকে বলেছিল “যখন আমার আর কেউ ছিল না তখন তুমিই আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা ছিলে”। আর আজ সেই পাতাটিই কত অপ্রাসঙ্গিক  সেই গাছের  কাছে। গাছের তলায় পড়ে পাতাটি শুধুই ভাবে সেইসব দিনের কথা আর গাছটির দীর্ঘ  জীবন আর সুখসমৃদ্ধি কামনা করতে করতে একদিন পচে গলে মাটির সাথে মিশে যায় এই আশা বুকে নিয়ে যে এই গাছটি একদিন হয়তো খাদ্যরস হিসেবে আবার তাকে গ্রহণ করবে ……………….।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *